স্বস্তির জয় এনে দিলেন আফিফ-মোসাদ্দেক

0

এফএনএস স্পোর্টস: চোখরাঙানি তখন পরাজয়ের। অপেক্ষা আরেকটি হতাশাময় সমাপ্তির। হাওয়া বুঝে গ্যালারি ছেড়ে গেছেন দর্শকদের অনেকে। মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে আফিফ হোসেনের জুটির শুরু সেখান থেকেই। ঝড়ো ফিফটিতে জাতীয় দলে ফেরা রাঙালেন আফিফ। মোসাদ্দেক থাকলেন শেষ পর্যন্ত। দুঃসময়ের চক্রে থাকা বাংলাদেশকে স্বস্তির জয় এনে দিল দুজনের দারুণ জুটি।

হারের বলয়ে থাকা বাংলাদেশ হারতে বসেছিল জিম্বাবুয়ের কাছেও। সেই শঙ্কা শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ পায়নি। ৩ উইকেটের জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার বৃষ্টিতে দেড় ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচ নেমে আসে ১৮ ওভারে। জিম্বাবুয়ের ১৪৪ রান তাড়ায় বাংলাদেশ জিতেছে ২ বল বাকি থাকতে।

গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ২ বলে শূন্য রান করে আউট হয়েছিলেন আফিফ। এরপর আর সুযোগই মিলছিল না। এবার দলে ফেরার ম্যাচেই সম্ভাবনাময় অলরাউন্ডার দেখালেন তার ঝলক। ২৬ বলে ৫২ রানের ইনিংসে তিনিই জয়ের নায়ক।

ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া সপ্তম উইকেট জুটিতে মোসাদ্দেক ও আফিফ ৪৭ বলে তুলেছেন ৮২ রান। ২ ছক্কায় ২৪ বলে ৩০ করে অপরাজিত ছিলেন মোসাদ্দেক।

এই দুজনের পারফরম্যান্সে আড়াল পড়ে গেছে জিম্বাবুয়ের রায়ান বার্লের অসাধারণ পারফরম্যান্স। দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে করেছেন ঝড়ো ফিফটি, নিয়েছেন একটি উইকেট, ধরেছেন চোখধাঁধানো এক ক্যাচ। সেসবও যথেষ্ট হয়নি দলকে জেতাতে।

মাঝারি রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা খারাপ ছিল না। ইনিংসের প্রথম ওভারেই শন উইলিয়ামসনকে ছক্কায় ওড়ান লিটন দাস। পরের ওভারে দারুণ শটে বাউন্ডারিতে পাঠান কাইল জার্ভিসকে।

লিটনের অভিযান শেষ এরপরই। জায়গা বানিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন, দারুণ ইয়র্কারে বোল্ড করে দেন টেন্ডাই চাতারা।

ওপেনিংয়ে লিটনের সঙ্গী সৌম্য সরকারও ফেরেন পিছু পিছু। বাজে শটে উইকেট দিয়ে আসেন জার্ভিসকে।

জার্ভিসের সেই ওভারেই আরেকটি বড় ধাক্কা। টেকনিকে দেশের সেরাদের একজন বলে বিবেচিত মুশফিকুর রহিম প্রথম বলেই বাউন্সারে ফেরেন দৃষ্টিকটুভাবে। পরের ওভারেই বাজে শটে চাতারাকে উইকেট দিয়ে আসেন সাকিব। বাংলাদেশের রান তখন ৪ উইকেটে ২৯।

মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির রহমান চেষ্টা করেন জুটি গড়ার। কিন্তু পারেননি বেশিদূর এগোতে। ১৪ রান করা মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে ২৭ রানের জুটি ভাঙেন বার্ল।

পরের ওভারেই আবার দৃশ্যপটে বার্ল। নেভিল মাদজিভার বলে উড়িয়ে মেরেছিলেন সাব্বির। রাতের আকাশে বল প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল যেন। মিড উইকেটে অনেকটা ছুটে সামনে ডাইভ দিয়ে সেই বলই অসাধারণ দক্ষতায় হাতে জমালেন বার্ল।

বাংলাদেশ তখন ৬ উইকেটে ৬০। স্তব্ধ গ্যালারি ও বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম। ভেসে আসছিল কেবল জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাসের শব্দ।

আফিফ গিয়েই পাল্টে দিলেন চিত্র। দেশের ক্রিকেটে ভয়ডরহীন চরিত্রের জন্য তিনি পরিচিত। ছাপ রাখতে শুরু করলেন সেই মানসিকতারই। প্রথম বলেই উড়িয়ে মেরে চার দিয়ে শুরু। পরের ওভারেই শন উইলিয়ামসকে মারলেন দুই চার, এক ছক্কা।

এমন সঙ্গী পেয়ে হয়তো আত্মবিশ্বাস পেয়ে গেলেন মোসাদ্দেকও। টানা দুই বলে দুর্দান্ত দুটি ছক্কায় ওড়ালেন বার্লকে।

এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। ৮ চার ও ১ ছক্কার ইনিংস খেলে আফিফ আউট হয়েছেন শেষ ওভারে। দলের জিততে সমস্যা হয়নি।

ম্যাচের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের একটি রেকর্ড দিয়ে। অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই নেন উইকেট, ব্রেন্ডন টেইলর ফিরে যান দ্বিতীয় ওভারেই।

হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ক্রেইগ আরভিনের ব্যাটে সেই ধাক্কা সামাল দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। তবে দুজনর কেউই লম্বা করতে পারেননি ইনিংস।

২৬ বলে ৩৪ করে মাসাকাদজা ফেরেন সাইফ উদ্দিনের বলে। মুস্তাফিজুর রহমান তার আগেই ফেরান আরভিনকে।

মিডল অর্ডারে শন উইলিয়ামস ও টিমিসেন মারুমা পারেননি টিকতে। দশম ওভারে ৬৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে তখন কাঁপছে।

বার্ল ও মাতমবোদজি সেখান থেকে জুটি বেঁধে এগিয়ে নেন দলকে। শুরুতে কয়েক ওভার সাবধানে খেলেছেন দুজন। এরপর দুর্দান্ত সব শটে চমকে দেন বার্ল। পরপর দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন মুস্তাফিজকে। তিনটি করে চার ও ছক্কায় সাকিবের এক ওভারে নেন ৩০ রান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের সবচেয়ে খরুচে ওভার এটিই।

এই জুটিকে আর আলাদা করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৩২ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন বার্ল। ২৬ বলে ২৭ রানে অপরাজিত মাদজিভা। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের জুটিতে জিম্বাবুয়ের রেকর্ড ৮১ রান আসে কেবল ৫১ বলে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত আফিফের আলোয় আড়াল হয়ে গেছেন আর সবাই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে : ১৮ ওভারে ১৪৪/৫ (টেইলর ৬, মাসাকাদজা ৩৪, আরভিন ১১, উইলিয়ামস ২, মারুমা ১, বার্ল ৫৭*, মাতমবোদজি ২৭*;  সাকিব ৪-০-৪৯-০, তাইজুল ৩-০-২৬-১, সাইফ ৪-০-২৬-১, মুস্তাফিজ ৪-০-৩১-১, মোসাদ্দেক ৩-০-১০-১)।

বাংলাদেশ: ১৭.৪ ওভারে ১৪৮/৭ (লিটন ১৯, সৌম্য ৭, সাকিব ১, মুশফিক ০, মাহমুদউল্লাহ ১৪, সাব্বির ১৫, মোসাদ্দেক ৩০*, আফিফ ৫২, সাইফ ৬*; উইলিয়ামস ৩-০-৩১-০, জার্ভিস ৪-০-৩১-২, চাতারা ৪-০-৩২-২, বার্ল ৩-০-২৭-১, মাদজিভা ৩.৪-০-২৫-২)।

ফল: বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: আফিফ হোসেন

Share.

Leave A Reply