শাস্তির মুখে মার্কিন নৌবাহিনীর সমালোচনাকারী ক্যাপ্টেন

0

এফএনএস বিদেশ : যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী থিওডোর রুজভেল্টের ক্রুদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়লেও তাদের সুরক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে নাÑ এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে একটি চিঠি লিখেছেন ওই রণতরীর ক্যাপ্টেন। ওই চিঠি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে। পরমাণুশক্তি চালিত রণতরীর নাবিকরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে থাকায় যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, চার পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে ক্যাপ্টেন ব্রেট ক্রোজিয়ার তা তুলে ধরেন। ওই চিঠি পড়ে উদ্বেগ ও হতাশায় ভুগছেন ক্রুদের পরিবারের সদস্যরা। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন তাদের সদস্যদের যথেষ্ট সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে কিনা, তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। রণতরীটির স্থায়ী বন্দর ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো হলেও সেটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চল গুয়ামে নোঙর করে রাখা হয়েছে। ওই চিঠির কারণে ক্যাপ্টেনকে কোনো ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে কিনা জানতে চাইলে মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি থমাস মডলি বলেন, ‘আমি জানি না কে এই চিঠি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করেছে। তিনি এ কাজ করে থাকলে, এটি নিয়ম ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি। কিন্তু আমি এ বিষয়ে জানি না।’

থমাস মডলি বলেন, ‘চেইন অব কমান্ড ভেঙে তিনি নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে এ চিঠি লিখলেও কোনো ধরনের প্রতিহিংসার শিকার হতে হবে না তাকে।’ ওই চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে রণতরীর চার হাজারেরও বেশি নাবিককে সরিয়ে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করার ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আহ্বান জানান ক্যাপ্টেন। এখনই পদক্ষেপ না নেওয়া হলে, ‘আমাদের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য সম্পদ এই নাবিকদের’ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে নৌবাহিনী, এমন মন্তব্যও করেন তিনি। মডলি বলেন, ‘তার এ মন্তব্য হতাশাজনক। সেই সঙ্গে আমি জানি এটি সত্য নয়। তাছাড়া রণতরীর ৯০ শতাংশ ক্রু সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এতে অস্ত্র ও যুদ্ধোপকরণ রয়েছে। এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক লোক দরকার।’ ওই রণতরীর এক হাজার ক্রুকে ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আরও ২ হাজার ৭শ’ জনকে সরিয়ে নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত ৯৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

Share.

Leave A Reply