রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি না হলে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট নয়

0

এফএনএস স্পোর্টস: ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ মাঠে গড়ানো তো বহুদূর, সহসা আলোচনা শুরুরই কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান এহসান মানি। আপাতত হাল ছেড়ে দিয়েছেন বলেই জানালেন আইসিসির সাবেক এই সভাপতি। তার মতে, রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি না হলে ক্রিকেটের সম্পর্কও আর জোড়া লাগবে না। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের সবশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয়েছে ২০১৩ সালে। সেবার ¯্রফে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে ভারতে গিয়েছিল পাকিস্তান। দুই দেশের সবশেষ টেস্ট সিরিজ হয়েছে ২০০৭ সালে, সেবারও ভারতে গিয়েছিল পাকিস্তান। ভারত সবশেষ পাকিস্তান সফর করেছে ২০০৮ এশিয়া কাপে। পাকিস্তানে তারা সবশেষ টেস্ট খেলেছে ২০০৬ সালে। গত সাড়ে ৭ বছরে কেবল আইসিসি বা এসিসির টুর্নামেন্টেই দেখা হয়েছে দুই দলের। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এহসান মানি বললেন, ভারতীয় বোর্ড বিসিসিআইয়ের সঙ্গে অনেক আলোচনা করেও কাজ না হওয়ায় এখন তারা আশা ছেড়ে দিয়েছেন। “ বছরের পর বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়ে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আমাদের অনেক কথা হয়েছে। এখন তাদের সঙ্গে আমি আর কোনো কথা বলছি না। কিছু বলার থাকলে তাদেরই বলতে হবে।” “টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট হোক বা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, সব এখন ভারতের ওপরই নির্ভর করছে। এই মুহূর্তে ভারতের সঙ্গে কোনো টি-টোয়েন্টি লিগ খেলার ইচ্ছে আমাদের নেই। প্রথমে আমাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক (রাজনৈতিক) ঠিকঠাক করতে হবে, তার পর আমরা কথা বলব।” ৭৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেট প্রশাসকের আক্ষেপ, দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে আগের সেই আন্তরিকতা ও উষ্ণতা এখন আর নেই।“ ভারতীয় বোর্ডের সাবেক প্রধান জগমোহন ডালমিয়া, শরদ পাওয়ার, এমনকি আরও আগে, মাধবরাও সিন্ধিয়া (১৯৯০-১৯৯৩), তাদের সঙ্গে অনেক আলোচনা হয়েছে আমার। বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো ও খোলামেলা সম্পর্ক ছিল আমাদের। গত ১২ বছরে সেই সম্পর্ক আর আগের মতো নেই। আগে আমাদের সম্পর্কের ভেতর দুই বোর্ডেরই আস্থা ও অসঙ্কোচ ছিল, সততার সঙ্গে পরস্পরের সঙ্গে কথা হতো।” “ এই দফায় পিসিবির দায়িত্বে আসার পর (২০১৮ সালের অগাস্ট) আমি বিস্ময় ও হতাশাভরে দেখলাম, সেই সম্পর্ক আর নেই। এখানে অনেক উন্নতি করা জরুরি। আমাদের দিক থেকে আমরা যে কোনো সময়ই কথা বলতে পারি, কিন্তু এক হাতে তো তালি বাজে না!” আইসিরি সাবেক এই সভাপতি আগেও অনেকবারের মতো আবারও দায় কিছুটা দিলেন আইসিসিকে। “ আইসিসির গঠনতন্ত্রে আছে যে, সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ চলবে না। আইসিসির তো উচিত ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে এটি নিয়ে কথা বলা।’ আইপিএলের প্রথম আসরে ১১ জন পাকিস্তানী ক্রিকেটার খেলেছিলেন। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার সোহেল তানভির। এরপর বিশ্ব জুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোয় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অনেক চাহিদা থাকলেও আইপিএলে তাদের খেলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। মানি জানালেন, এটি নিয়েও ভারতীয় বোর্ডকে কোনো অনুরোধ তিনি করবেন না।

 

Share.

Leave A Reply