মূল্যবান লিড কাজে লাগাতে পারল না শ্রীলঙ্কা

0

এফএনএস স্পোর্টস: প্রথম ইনিংসে পাওয়া মূল্যবান লিড শ্রীলঙ্কা কাজে লাগাতে পারল না দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতায়। ডম বেস ও জ্যাক লিচের দারুণ বোলিংয়ে অল্পতে গুটিয়ে গেল তারা। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় মাঝপথে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়তে বসেছিল ইংল্যান্ডও। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তেমন কিছু হয়নি, স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করেই ছাড়ল জো রুটের দল। দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট চার দিনেই ৬ উইকেটে জিতেছে ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ৩৭ রানের লিড পাওয়া শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় ১২৬ রানে। ডম সিবলির অপরাজিত ফিফটিতে ১৬৪ রানের লক্ষ্য সফরকারীরা ছুঁয়ে ফেলে দিনের শেষ ভাগে। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে লিড এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখা লাসিথ এম্বুলদেনিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে দলের হয়ে করেন সর্বোচ্চ ৪০ রান। আর কেউ যেতে পারেননি ২০-এর ঘরে। ৪টি করে উইকেট নেন ইংল্যান্ডের দুই স্পিনার বেস ও লিচ। শ্রীলঙ্কা সিরিজ শুরু করেছিল প্রথম টেস্টে ১৩৫ রানে অলআউট হয়ে। তাদের শেষটাও হলো বাজে ব্যাটিংয়ের হতাশায়। এই নিয়ে শ্রীলঙ্কায় ইংল্যান্ড জিতল টানা ছয় টেস্ট, শেষ দুই সফরেই প্রতিপক্ষকে করল হোয়াইটওয়াশ। গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের ৯ উইকেটে ৩৩৯ রানের সঙ্গে সোমবার ইংল্যান্ড যোগ করতে পারে কেবল ৫ রান। লিচকে এলবিডব্লিউ করে সফরকারীদের গুটিয়ে দেন দিলরুয়ান পেরেরা। দ্বিতীয় ইনিংসে উদ্বোধনী জুটিতে কুসল পেরেরা ও লাহিরু থিরিমান্নে যোগ করেন ১৯ রান। বাঁহাতি স্পিনার লিচকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন কুসল পেরেরা (১৪)। শ্রীলঙ্কার পথ হারানোর শুরু সেখানেই। দুই প্রান্ত থেকে লিচ ও বেসের আক্রমণে শ্রীলঙ্কা উইকেট হারায় নিয়মিত বিরতিতে। ওশাদা ফার্নান্দো, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস, দিনেশ চান্দিমাল, নিরোশান ডিকভেলা যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। থিরিমান্নে করেন ১৩। একটা পর্যায়ে লঙ্কানদের স্কোর হয়ে যায় ৮ উইকেটে ৭৮। এই আট উইকেট ভাগ করে নেন বেস ও লিচ। ১০ নম্বরে নেমে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন এম্বুলদেনিয়া। সুরঙ্গা লাকমলের সঙ্গে নবম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৪৮ রান। বল হাতে নিয়ে নিজের দ্বিতীয় ওভারে এম্বুলদেনিয়াকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রুট। ইংলিশ অধিনায়ক পরের বলে আসিথা ফার্নান্দোকে ফিরিয়ে গুঁটিয়ে দেন ইনিংস।৪২ বলে ৬ চার ও এক ছক্কায় ৪০ রান করেন এম্বুলদেনিয়া। ১ ওভার ৫ বলে কোনো রান না দিয়েই রুটের শিকার ২ উইকেট। প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষের ১০ উইকেট ভাগ করে নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের তিন পেসার। দ্বিতীয় ইনিংসে সবগুলো উইকেট নিলেন স্পিনাররা। লক্ষ্য তাড়ায় ইংল্যান্ডের পথটাও সহজ ছিল না। সিরিজে চতুর্থবার এম্বুলদেনিয়ার শিকার হয়ে জ্যাক ক্রলি ফেরেন দলীয় ১৭ রানে। দ্বিতীয় উইকেটে ৪৫ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন সিবলি ও জনি বেয়ারস্টো। ২৮ বলে ২৯ রান করে এম্বুলদেনিয়ার বলে এলবিডব্লিউ হন বেয়ারস্টো। দ্রুত বিদায় নেন রুট ও ড্যান লরেন্স। রামেশ মেন্ডিসকে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন ইংলিশ অধিনায়ক। লরেন্সকে ফিরিয়ে এম্বুলদেনিয়া ম্যাচে পূর্ণ করেন ১০ উইকেট। ৮৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড তখন চাপে। তবে পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৭৫ রানের জুটিতে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সিবলি ও জস বাটলার। সিরিজে চার ইনিংসে প্রথমবার দুই অঙ্ক ছুঁয়ে ১৪৪ বলে ২ চারে ৫৬ রান করেন সিবলি। ৪৮ বলে ৫ চারে ৪৬ রান কিপার-ব্যাটসম্যান বাটলারের। প্রথম ইনিংসে ১৮৬ রান করা রুট জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। প্রথম টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরিসহ সিরিজে ১০৬.৫০ গড়ে ৪২৬ রান করে সিরিজ সেরাও ইংলিশ অধিনায়ক।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৮১

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১১৬.১ ওভারে ৩৪৪ (আগের দিন ৩৩৯/৯) (লিচ ১, অ্যান্ডারসন ৪*; লাকমল ১৬-৭-৩১-০, এম্বুলদেনিয়া ৪৪-৬-১৩৭-৭, ফার্নান্দো ১০-২-৩১-০, দিলরুয়ান পেরেরা ৩২.১-৪-৮৬-১, মেন্ডিস ১৬-১-৪৮-১)

শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস: ৩৫.৫ ওভারে ১২৬ (কুসল পেরেরা ১৪, থিরিমান্নে ১৩, ওশাদা ফার্নান্দো ৩, ম্যাথিউস ৫, চান্দিমাল ৯, ডিকভেলা ৭, মেন্ডিস ১৬, দিলরুয়ান পেরেরা ৪, লাকমল ১১*, এম্বুলদেনিয়া ৪০, আসিথা ফার্নান্দো ০*; অ্যান্ডারসন ২-০-৬-০, কারান ২-০-৯-০, বেস ১৬-১-৪৯-৪, লিচ ১৪-১-৫৯-৪, রুট ১.৫-১-০-২)

ইংল্যান্ড ২ম ইনিংস: (লক্ষ্য ১৬৪) ৪৩.৩ ওভারে ১৬৪/৪) (ক্রলি ১৩, সিবলি ৫৬*, বেয়ারস্টো ২৯, রুট ১১, লরেন্স ২, বাটলার ৪৮; এম্বুলদেনিয়া ২০-৩-৭৩-৩, দিলরুয়ান পেরেরা ১৩.৩-১-৩৯-০, মেন্ডিস ১০-০-৪৮-১)

ফল: ইংল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজ ইংল্যান্ড ২-০ তে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: জো রুট

ম্যান অব দা সিরিজ: জো রুট।

 

 

Share.

Leave A Reply