মডেল পিয়াসা ও মৌ রিমান্ডে

0

এনএনবি : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আলাদা মামলায় মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের আদেশ দিয়েছে আদালত।

মোহাম্মদপুর থানার মামলায় পুলিশ মৌকে ১০ দিনের হেফাজতে নিতে চাইলেও ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আশেক ইমাম তিন দিন মঞ্জুর করেন।

একইভাবে গুলশান থানার মামলায় পিয়াসাকে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন মহানগর হাকিম শহীদুল ইসলাম।

আদালতে পিয়াসার পক্ষে আইনজীবী আসিফ ও মৌয়ের পক্ষের আইনজীবী শহীদুল ইসলাম সিদ্দিকী রিমান্ড না মঞ্জুর করে জামিনের আবেদন করেন।

তারা দুজনেই তাদের মোয়াক্কেলকে সাজানো মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুঁলি আবদুল্লাহ আবু ও অন্যান্যরা তাদের আবেদন ও বক্তব্যের বিরোধিতা করেন।

রোববার রাত ১০টার দিকে গুলশান থানার বারিধারার ৯ নম্বর রোড এলাকায় মডেল পিয়াসার বাসায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ইয়াবা ও সীসাসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে মডেল মৌয়ের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেও এসব মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পরে মৌকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

এঘটনায় সোমবার দুপুরে গুলশান থানায় পিয়াসার বিরুদ্ধে ও মোহাম্মদপুর থানায় মৌয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তর) শাখার যুগ্ম-কমিশনার হারুন-অর-রশীদ বলেন, গ্রেপ্তার দুই মডেল ‘রাতের রাণী’। তারা দিনের বেলায় ঘুমাতেন এবং রাতে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পার্টির নামে বাসায় ডেকে আনতেন। বাসায় তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলতেন এবং ভিডিও করে রাখতেন। পরে সেসব ভিডিও ও ছবি ভিকটিমদের পরিবারকে পাঠানোর হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতেন এবং মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মডেল পিয়াসা ও মৌ সংঘবদ্ধ একটি চক্র। তারা পার্টির নামে উচ্চবিত্তদের বাসায় ডেকে মদ ও ইয়াবা খাইয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখতেন। পরে সেই ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন। তাদের বিরুদ্ধে আমরা অনেক ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ পেয়েছি। সেসব ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তাদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। দুইজনের বাসায় বিদেশি মদ, ইয়াবা, সিসা পাওয়া যায়। মৌয়ের বাড়িতে মদের বারও ছিল।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের মে মাসে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে নাম ছিল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসার।

প্রথমে মামলা করতে ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করেছিলেন পিয়াসা। কিন্তু সেই পিয়াসার বিরুদ্ধেই আবার মামলা তুলে নেয়ার হুমকির অভিযোগে জিডি করেছিলেন ভুক্তভোগী।

Share.

Leave A Reply