ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের তত্বাবধায়নে অপারেশন সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে অভিনব কৌশলে টাকা চুরির ঘটনার তথ্য উদঘাটন আসামি গ্রেফতার

0

বিশেষ প্রতিনিধি : মধ্য শহরের সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে অভিনব কৌশলে টাকা চুরির ঘটনার তথ্য উদগাটন করে আসামি গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। পুরো অপারেশন কার্যক্রমের সার্বিক তত্বাবধায়ন করেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ^াস। জানা যায়, গেলো ৮ জানুয়ারি বেলা সাড়ে বারোটার দিকে জনৈক ব্যাক্তি ডিবি পুলিশের এস আই অসিত কুমার বসাককে ফোনে জানান, দাদা আমার খুব বিপদ, আমার এক আত্বীয়ের ৫ লাখ চুরি হয়ে গেছে। এঘটনা জেনে তৎক্ষনাত সোনালী ব্যাংকের সামনে গিয়ে শোনেন, একজন ভদ্রমহিলা তার স্বামীকে নিয়ে সঞ্চয়পত্রের টাকা উত্তোলনের জন্য সকাল ১১ টা ৫০ মিনিটে পাবনা শহরের সোনালী ব্যাংকে আসে এবং ১২ টা ১২ মিনিটে টাকা উত্তোলন করে ভদ্রমহিলা তার হাত ব্যাগে করে নিয়ে সোনালী ব্যাংকের সিড়ি ভেংগে নেমে ২০/২৫ গজ সামনে রাস্তায় নেমে দেখেন তার ব্যাগে টাকা নাই। ভদ্রমহিলা বেশ অসুস্থ বেশি কিছু জিজ্ঞেস করা যাচ্ছে না। খেই হারিয়ে ফেলছেন । তার সারা জীবনের সঞ্চয়ের টাকা । তিনি শুধু বললেন যে, সোনালী ব্যাংকের সামনে বেশ ভীড় ছিল, তার পাশে গা ঘেষে দুইজন বোরকা পরা মহিলা ছিল। ঘটনাটি জেনে এস আই অসিত পুরো বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ^াসকে জানান। এটি জেনে গৌতম বিশ^াস বলেন, এরকম অভিযোগ আগেও শোনা গেছে, যেভাবে হোক এ চক্রটিকে ধরতেই হবে। তারই নির্দেশে ও তত্বাবধায়নে সোনালী ব্যাংকসহ আশে পাশের সব সিসি ক্যামেরা ফুটেজ চেক করেও আশানুরুপ ফল না পাওয়ায় বিষয়টি জানালে তাকে ঘটনার তত্য উদঘাটনে কিভাবে লেগে থাকতে হবে ও কাজ করতে হবে তার নির্দেশনা দেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা । এঘটনায় পাবনা সদর থানায় মামলা রুজু হলো ১০ জানুয়ারি। তদন্তভার দেওয়া হয় এস আই অসিতকে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে চুল চেড়া বিশ্লেষন করে দুইজন সন্দেহভাজনকে সনাক্ত করা হয় । ডিবি পাবনার একটি টিম নিয়ে বগুড়া শহরে গিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করে, নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাদের। নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেল অন্যরকম চুরির তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদে দুই চোর স্বীকার করে যে, তারা একটি চোর চক্র চালায়। এ চক্র বিভিন্ন জেলায় চুরি করে। এ গ্রুপের প্রধান একজন নারী যার নাম শেলি (ছদ্মনাম)। তার বাড়িও বগুড়া থানা এলাকায় । এ গ্রুপের মোট সদস্য ৫ জন। তারা প্রধানত বগুড়া ছাড়া অন্যান্য জেলায় কৌশলে টাকা চুরি করে। তারা প্রথমে কোন জেলার সোনালী বা অন্য কোন ব্যস্ততম ব্যাংককে টার্গেট করে, যেদিন ঘটনা ঘটাবে আসামীগণ সে দিন ঐ জেলার উদ্দেশ্যে সকালে বগুড়া থেকে রওনা করে। তারপর আসামীগণ সে জেলায় গিয়ে শহরে অবস্থিত যেকোন ব্যস্ততম ব্যাংকের মধ্যে এবং আশে পাশে অবস্থান নেয়। প্রথমত আসামীগণ মহিলা যাদের কাছে সদ্য ব্যাংক থেকে তোলা নগদ টাকা ব্যাগের ভিতর থাকে তাদেরকে টার্গেট করে এবং অনুসরন করতে থাকে, সুযোগে জটলা তৈরী করে ভিকটিমকে আসামীগণ কৌশলে ঘিরে হাটতে থাকে এবং প্রধান আসামী শেলি ভিকটিমের গা ঘেষে হাটতে থাকে এবং তার শরীরে থাকা বড় ওড়না দিয়ে উক্ত জটলার ভিতর ভিকটিমের কাছে থাকা ব্যাগটিকে ঢেকে তার ভিতর থেকে অভিনব কৌশলে টাকা বের করে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে । ঠিক একইভাবে আসামীগণ গত ৮ জানুয়ারি সোনালী ব্যাংকের সামনে হতে সামান্য দূরে পাকা রাস্তার উপর বাদীর স্ত্রীর কাছে ব্যাগে থাকা ৫ লাখ টাকা চুরি করে মাইক্রোবাসে করে পাবনা শহর ত্যাগ করে । বিজ্ঞ আদালতে আসামীদ্বয় নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। তারা বর্তমানে পাবনা জেল হাজতে আটক আছে। এ চুরির ঘটনার ভূক্তভোগী পাবনা জেলা পুলিশ, ডিবি পাবনা টিম, ডিবি বগুড়া টিম, এলআইসি এসবি ও এলআইসি হেডকোয়াটারের সাথে সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন ও তাদের প্রতি গভীর কৃতγতা প্রকাশ করেছেন।

Share.

Leave A Reply