প্রায় ৩ কোটি টাকার চামড়া নিয়ে সঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

0

বিশেষ প্রতিবেদক : কোরবানী পশুর প্রায় ৩ কোটি টাকার কাঁচা চামড়া কিনে অজানা সঙ্কার মধ্যে সময় পার করছেন পাবনার চামড়া ব্যবসায়ীরা। চামড়ার কোম্পানীর কাছ থেকে বকেয়া পুরো টাকা না পাওয়া, ঋণ, ধার ও দেনা করে বেশি দাম দিয়ে চামড়া কিনে আদৌ মুল টাকা তুলতে পারবেন কিনা এ ধরণের সঙ্কা বিরাজ করছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। পাবনা শহরের চামড়ার গোডাউনপাড়ায় গিয়ে কথা হয় বেশ কয়েকজন চামড়ার আড়ৎদারের সাথে। জেলার ৯ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা চামড়া আড়ৎদারের প্রতিনিধিরা ক্রয় করে তুলে আনছেন শহরের মহজনদের কাছে। পাবনায় এবারে প্রায় ৩ কোটি টাকার চামড়া ক্রয় করেছে বিভিন্ন আড়ৎদার। তন্মধ্যে প্রায় কোটি টাকার চামড়া পাবনা সদর ও পৌর এলাকা থেকে সংগ্রহ করেছে ব্যবসায়ীরা। সরকার নির্ধারিত মূল্য নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঘোষিত মূল্যে তারা ক্রয় করবেন নাকি চামড়ার কোম্পানীগুলো ক্রয় করবে তা নিয়ে অজানা সঙ্কা কাজ করছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। নতুন চামড়া ব্যবসায়ী চন্দন বলেন, কোরবানীর পশুর চামড়া বিশেষ করে গরু ৪০০ থেকে ৭০০ টাকায় আর ছাগল ২০ টাকা থেকে ৬০ টাকার মধ্যে ক্রয় করেছেন। একটি গরুর চামড়া ক্রয় করা, পরিবহণ, শ্রমিক ও লবন দিয়ে তৈরি করতে কমপক্ষে ২০০ টাকা খরচ হয়েছে। একটি চামড়া প্রস্তুত করতে কমপক্ষে ১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অনুরূপ ভাবে প্রতিটি ছাগলের চামড়াতে এক থেকে দেড়শ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এই চামড়া কোন সমস্যা ছাড়াই কোম্পানীগুলো দিতে পারবেন কিনা এটা নিয়ে রয়েছে তাদের মধ্যে আতংক। চামড়া ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম কিরণ বলেন, ইতোমধ্যে গরুর চামড়া প্রায় ১২শ’ আর ছাগলের চামড়া কমপক্ষে ২২শ’ ক্রয় করেছেন। লবন দিয়ে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করেছেন। এখন বাকি কোম্পানীর কাছে হস্তান্তর। কিন্তু দাম নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। তারা যে দামে চামড়াগুলো সংগ্রহ করেছেন এবং প্রস্তুত করে আশানুরূপ দাম পাওয়া নিয়ে পড়েছেন দারুন বিপাকে। কিরন বলেন, সংগ্রহ করা চামড়া যাতে নিঘির্œনে কোম্পানীগুলো গ্রহণ করে এবং আমরা যাতে আর্থিক ভাবে ক্ষতির সন্মুখিন না হই সে ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়াও কয়েকজন চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, ঢাকার পরে পাবনার চামড়া ব্যবসায় বেশ সুনাম ছিল। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে লাভজনক এই ব্যবসা আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে। এই শিল্পকে ধ্বংস করতে একটি মহল বা চক্র উঠে পড়ে লেগেছে বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই। দেশের এই ব্যবসা ধ্বংসের পেছনে পাশ্ববর্তী ভারত ও চীনের সম্পৃক্ততার দাবী জানিয়ে তারা বলেন, এক সময়ে বাংলাদেশের চামড়ার কদর ছিল বিশ্ববাজারে। কিন্তু আজ আমাদের দেশের চামড়া দিয়েই ভারত ও চীন বিশ্বে বাহবা আদায় করছে। চামড়া শিল্পের সুদিন ফিরিয়ে আনতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানান তারা। ব্যবসায়ীরা বলেন, এবারে চামড়ায় ব্যবহার করা লবনের দামও বেড়ে গেছে। তাদের ঘরে এসে প্রতি বস্তা লবন সাড়ে ৬ শ’ টাকা পড়েছে। লেবার মজুরীও বৃদ্ধি পয়েছে। তাছাড়া পাড়া মহল্লা থেকে ফড়িয়া ব্যাপারী স্বল্প মূল্যে সংগ্রহ করলেও তা আমাদের কাছে এসে চড়া দামে বিক্রি করছে। ফলে এই ব্যবসায় মধ্যসত্বভোগী হচ্ছেন সবচেয়ে লাভবান। আর হতাশা, দুশ্চিন্তা আর সঙ্কা নিয়ে সময় পার করছি আমরা। চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ইদু জানান, সরকারি ভাবে ঘোষিত চামড়ার দাম নিয়ে আমরা ধোয়াশার মধ্যে আছি। মওসুমি চামড়া ক্রেতাদের অলস টাকায় ইচ্ছেমতো দামে চামড়া কেনার ফলে কষ্ট হলেও আমাদের তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চামড়া ক্রয় করতে হচ্ছে। ইদু বলেন, চামড়া কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা লোন দেয়া হয়েছে ব্যাংক থেকে। সরকারি ভাবে জুন পর্যন্ত সুদ না নেওয়ার কথা থাকলেও ব্যাংক সেটা মানেনি। তারা জুন পর্যন্ত সুদ কেটে নিয়েছে। ইদু বলেন, ঢাকার ট্যানারী কোম্পানী গুলো আমাদের ২৩ ফুটের বেশি চামড়া নেবে না। অথচ আমার সংগ্রহ করা চামড়ার প্রায় অর্ধেক চামড়াই তার চেয়ে বড়। তাছাড়া কোরবানী ঈদের চামড়া বড় হয়েই থাকে। এটাও একটা সমস্যার মধ্যে ফেলেছে। তবে প্রতিবারই চামড়া পচন ধরতো। কিন্তু এবারে চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে খুব ভালো ভাবে।

Share.

Leave A Reply