পেন্সের সঙ্গেও দূরত্ব, ট্রাম্পের পাশে অল্প ক’জন

0

এফএনএস বিদেশ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতর নিজেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলছেন, নির্ভর করছেন তার একান্ত অনুগত কয়েকজনের উপর আর সেইসব সহযোগীদের উপর ফুঁসছেন, যারা তার কথার অবাধ্য হওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। তার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া সহযোগীদের মধ্যে এখন এমনকী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের নামও আছে বলে এ সম্বন্ধে অবগত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। বুধবার ক্যাপিটল ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের নজিরবিহীন হামলার পর প্রেসিডেন্টের দীর্ঘদিনের অনেক উপদেষ্টাই তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন; উল্টাপাল্টা কথা বলে ট্রাম্পই তার সমর্থকদের তাঁতিয়ে দিয়েছিলেন বলেও মনে করছেন তারা। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্প্রতি কোনো কথা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপদেষ্টা বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কথাই বলতে চাইছেন না। কংগ্রেসে বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করতে রাজি না হওয়ায় ট্রাম্প গত কয়েকদিনে ঘনিষ্ঠদের মধ্যে তো বটেই এমনকী জনসমক্ষেও ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্সের কড়া সমালোচনা করেছেন। “তিনি (ট্রাম্প) পেন্সের বিশ্বাসঘাতকতায় সবচেয়ে বেশি মর্মাহত হয়েছেন এবং কোনোমতেই মেনে নিতে পারছেন না। সারাদিন ধরে তার কথার প্রতিপাদ্য ছিল- আমি তাকে বানিয়েছি, রাজনৈতিক মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছি, আর সে কিনা আমার পিঠেই ছুরি মারছে,” ওয়াশিংটন পোস্টকে এমনটাই বলেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক এক কর্মকর্তা। পেন্স তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন, এমনটা বলায় ভাইস প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ মার্ক শর্টকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার কথাও বুধবার প্রেসিডেন্ট বলছিলেন বলে কর্মকর্তাদের কয়েকজন জানিয়েছেন।  চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প পেন্সকে সামনাসামনিও তীব্র ভর্ৎসনাও করেন বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। এ প্রসঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্টের কার্যালয় কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও রিপাবিলকান সিনেটর জিন ইনহোফে জানান, তার সঙ্গে বুধবার রাতে যখন পেন্সের কথা হয় তখন ভাইস প্রেসিডেন্টকে তীব্র রাগান্বিত দেখাচ্ছিল। “আমি অনেকদিন ধরেই মাইক পেন্সকে চিনি, কিন্তু তাকে আজকের মতো রাগতে আর কখনোই দেখিনি,” সংবাদমাধ্যম তুলসা ওয়ার্ল্ডকে এমনটাই বলেছেন ইনহোফে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও পেন্সের মধ্যে দূরত্ব এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দু’জন হয়তো একে অপরের সঙ্গে আর কখনো কথা নাও বলতে পারেন। পেন্সের এক উপদেষ্টা ভাইস প্রেসিডেন্টের কর্মকা-কে সমর্থন করে বলেছেন, “তিনি যেভাবে সংবিধান অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন তার জন্য তার আশপাশের সবাই তাকে নিয়ে গর্বিত। তিনি কি করতে যাচ্ছেন তা আগেই প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছিলেন। মাইক পেন্স প্রেসিডেন্টকে অবাক করে দেননি। যা করতে যাচ্ছেন তার ব্যাপারে তিনি ছিলেন সৎ।” হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের চারপাশে এখন একান্ত অনুগতদের ছোট একটি দলই আছে। এ দলে কেবল তার ডিজিটাল পরিচালক ডান স্ক্যাভিনো, প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত কার্যালয়ের পরিচালক জন ম্যাকএনটি, বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো, বক্তৃতালেখক স্টিফেন মিলার ও ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জুলিয়ানিই আছেন বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। এমনকী নির্বাচনের পর থেকে তার উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনারকেও প্রেসিডেন্টের আশপাশে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। “এটা দুঃখজনক। তার আশপাশে থাকা লোকজন এখনও তাকে উসকে দিয়েই যাচ্ছে,” বলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা। হোয়াইট হাউস এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

Share.

Leave A Reply