পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি উদ্বেগজনক: স্বাস্থ্য অধিদফতর

0

এফএনএস: আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে স্থাপিত কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গতকাল রোববার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর আয়োজিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম এ কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেখানে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি জড়িয়ে আছে, সেখানে আমাদের উদ্বেগের বিষয়টি বরাবরই বলি। ইতোমধ্যে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছি। যেহেতু কোরবানির পশুর হাটগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেখভাল করা হয়, আমরা জানি বিষয়টি নিয়ে তারাও নজরদারিতে আছেন। ক্রেতা-বিক্রেতা সবারই সচেতনতা ও দায়িত্ব বোধের বিষয়টি আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে মনিটরিং টিম আছে। তারা তাদের মতো করে দেখ-ভাল করছেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেকেই আমরা দায়িত্বশীল নাগরিক। দায়িত্বের জায়গাটি তাদের মনে করিয়ে দেওয়া এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের প্রত্যেকেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। যে যার জায়গা থেকে প্রত্যেকের ভূমিকাটি যদি আমরা যথাযথভাবে পালন করি, তাহলে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি আরেকটু ভালোভাবে মেনে চলা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ভুটান। সেখানে মাত্র দুই হাজার ৩৯৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং মাত্র দুই জন মারা গেছেন। বাংলাদেশে ২৮তম সপ্তাহে দুই লাখ ৮৪ হাজার ৪২৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ৮৩ হাজার ৯৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৫৫ হাজার ২৪ জন, মারা গেছেন এক হাজার ৪৮০ জন। মৃত্যুর সংখ্যা ১৫ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়েছে। ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়েছেন। শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া, এই সপ্তাহে ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত সাত দিনের সংক্রমণের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণের হার ২৯ শতাংশের উপরে থেকেছে বেশির ভাগ সময়। শুক্রবার হওয়ায় নমুনা সংগ্রহ কম থাকলেও সংক্রমণের হার ২৯ শতাংশের বেশিই ছিল। গত ৩০ দিনের সংক্রমণের যে চিত্র তাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে আমরা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করেছি। শতকরা হিসেবে শনাক্তের হারও বেশিÑ বলেন ডা. নাজমুল। তিনি আরও বলেন, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত তুলনা করলে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে ২১ হাজার ৬২৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। যা ফেব্রুয়ারিতে আরও কমে গিয়েছিল। মার্চ থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করল, এপ্রিলে বাড়ল। জুলাই মাসে এসে গতকাল রোববার পর্যন্ত এক লাখ ৭৯ হাজার ১৫৩ জন রোগী এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন। সংখ্যার হিসেবে গত শনিবার ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন, সবচেয়ে কম মারা গেছেন সিলেট বিভাগে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ও ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটে তৈরি কোভিশিল্ড টিকার দ্বিতীয় ডোজের জন্য যারা অপেক্ষায় রয়েছেন তারা খুব শিগগিরই টিকা পাবেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ডের দ্বিতীয় ডোজের টিকার অপেক্ষায় যারা রয়েছেন তাদের আমরা বলব, খুব দ্রুতই এটার অবসান ঘটবে। টিকার চালান পেয়ে গেলেই দ্বিতীয় ডোজের জন্য সুসংবাদটি আমরা দিতে পারব। প্রসঙ্গত, দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয়ভাবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় এই কোভিশিল্ড টিকার মাধ্যমে। ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটের সঙ্গে সরকার তিন কোটি ডোজ টিকার জন্য চুক্তি করলেও ভারত টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে সেরামের সঙ্গে চুক্তির মাত্র ৭০ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড পায় বাংলাদেশ। তবে ভারত সরকার দুবারে বাংলাদেশকে এ টিকা উপহার দেয়। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ কোভিশিল্ড পেয়েছে ১ কোটি দুই লাখ ডোজ। সে অনুযায়ী এখন মাত্র কোভিশিল্ডের ৮২ হাজার ৫৫৯ ডোজ টিকা অবশিষ্ট আছে বলে ১৭ জুলাই জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় রয়েছে। ডেঙ্গু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবার সচেতন অংশগ্রহণ না থাকলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share.

Leave A Reply