নিজেদের বানানো ফাঁদে নিজেরাই আটকা পড়ল লঙ্কানরা

0

এফএনএস স্পোর্টস: উপমহাদেশের উইকেট স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য। অন্যদিকে এই অঞ্চলে বাইরের দেশের ব্যাটসম্যানদের ভীষণ ভুগতে হয়। ইংল্যান্ডের জন্য যে শ্রীলঙ্কা স্পিন-সহায়ক উইকেটেই যাবে, সেটা অনুমিতই ছিল। উদ্দেশ্য ছিল, নিজেদের স্পিন আক্রমণ দিয়ে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের ঘায়েল করা। কিন্তু কে জানতো, নিজেদের বানানো ফাঁদে নিজেরাই আটকা পড়বে লঙ্কানরা! সফরকারী স্পিনারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ঘরের মাঠেই হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছে দিনেশ চান্ডিমালদের। স্পিন আক্রমণ দিয়ে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নেওয়ার কাজ তাদের হয়েছে। কিন্তু ‘বাগড়া’ দিয়েছেন জো রুট। গলের দুই ম্যাচেই স্মরণীয় দুটি ইনিংস খেলেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। বিরুদ্ধ কন্ডিশনে স্পিন-সহায়ক পিচে প্রথম টেস্টে ২২৮ রানের ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় টেস্টে করেন ১৮৬ রান। রুটের দুর্দান্ত ইনিংসের পর দুই স্পিনার ডম বেস ও জ্যাক লেচের ছোবলে ৬ উইকেটে জিতে নিয়েছে দ্বিতীয় টেস্ট। অথচ দ্বিতীয় ইনিংস শুরুর সময় সুবিধাজনক স্থানে ছিল শ্রীলঙ্কা। ৩৭ রানে এগিয়ে থেকে ইনিংস শুরু করার পর পাল্টে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। ইংলিশ স্পিনে কুপোকাপ স্বাগতিকরা। নিজেদের তৈরি করা স্পিন-সহায়ক পিচে নিজেরাই ঘায়েল! লঙ্কানরা মাত্র ১২৬ রানে গুটিয়ে গেলে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ঠিক হয় ১৬৪ রানের। ৪ উইকেট হারিয়ে সেই লক্ষ্যে পৌঁছে চার দিনে ম্যাচের সঙ্গে ২-০ ব্যবধানে সিরিজও জিতে নেয় সফরকারীরা। চতুর্থ দিনে পড়েছে ১৫ উইকেট। ৯ উইকেটে ৩৩৯ রান নিয়ে দিন শুরু করে ইংল্যান্ড অলআউট হয় ৩৪৪ রানে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে শ্রীলঙ্কা পড়ে লেচ ও বেসের ঘূর্ণির সামনে। বেস ৪৯ রান দিয়ে পেয়েছেন ৪ উইকেট। তার সমান ৪ উইকেট নিয়ে লেচের খরচ ৫৯ রান। দিশেহারা লঙ্কানদের স্কোর তবু ১২৬ পর্যন্ত গিয়েছে স্পিনার লাসিথ এম্বুলদেনিয়ার কল্যাণে। শেষ দিকে তার ব্যাট থেকে আসে ৪০ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ রান এসেছে রমেশ মেন্ডিসের ব্যাট থেকে। আর দুই অঙ্কের ঘরে যেতে কেবল কুশল পেরেরা (১৪), লাহিরু থিরিমানে (১৩) ও সুরঙ্গা লাকমাল (১১)। ১৬৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে এই সিরিজে প্রথমবার দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পেরেছেন ডম সিবলি। অপরাজিত হাফসেঞ্চুরিতে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন এই ওপেনার। তার হার না মানা ৫৬ রানের সঙ্গে জস বাটলারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে আসা অপরাজিত ৪৬ রানে ভর দিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান রুট করেন ১১ রান। জনি বেয়ারস্টোর ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান। ম্যাচ ও সিরিজসেরা হয়েছেন রুট। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট পাওয়া এম্বুলদেনিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৩ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। আর অন্য উইকেটটি পেয়েছেন রমেশ মেন্ডিস।

 

Share.

Leave A Reply