ছাইকোলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গোপনে গভর্নিং বডি গঠণের অভিযোগে তদন্ত

0

শামীম হাসান মিলন : চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে গোপনে কলেজের গভর্নিং বডি গঠণের অভিযোগ উঠেছে। করোনাকালীন সময়ে অধ্যক্ষ কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে, অত্যন্ত গোপনে গভর্নিং বডি গঠণ করে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃক তা অনুমোদন করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক গভর্নিং বডির একাধিক সদস্য, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দায়ের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মগরেব আলীকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোমবার কলেজে গিয়ে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন। তিনি অভিযোগকারী, এলাকাবাসী ও অধ্যক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করেন। অভিযোগে জানা যায়, অধ্যক্ষ কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে করোনাকালীন সময়ে নিজস্ব লোকজনকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে গভর্নিং বডি গঠণ করে তা অনুমোদন করিয়েছেন। এর আগে গভর্নিং বডি গঠণের বিষয়টি স্বীকার করলেও গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন, প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ, নির্বাচনীত ফসিল প্রকাশ বা নোটিশ প্রদানের কোন প্রমাণাদি সাংবাদিকদের দেখাতে পারেননি কলেজ অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। এনিয়ে অভিভাবক, এলাকার জন প্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন তারা।  এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। এক পর্যায়ে আদালতে মামলাও করা হয়। আরো জানা গেছে, ছাইকোলা ডিগ্রী কলেজের গভর্নিং বডির মেয়াদ গত ১১ জুলাই শেষ হয়েছে। এর আগেই কলেজের অধ্যক্ষ বর্তমান কমিটির কাউকে কোন কিছু না জানিয়ে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য কোন কমিটি বা প্রিজাইডিং অথবা রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ না করে, অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য কোন প্রকার নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা না করে নিজের ইচ্ছেমতো অভিভাবক সদস্য মনোনীত করে, সভাপতিসহ বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনীত করে একটি কমিটি গঠণ করে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় হতে তা অনুমোদন করিয়েছেন। কমিটি গঠণ ও অনুমোদনের বিষয়টি জানতেন না খোদ কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি আব্বাস আলী মাস্টার নিজেও। এ বিষয়ে সদ্য শেষ হওয়া কমিটি ও বর্তমান অনুমোদিত কমিটির সভাপতি আব্বাস আলী মাস্টারসহ, একাধিক অভিভাবক, সাবেক অভিভাবক প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি জানান, নতুনভাবে গভর্নিং বডি করার বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না।  ছাইকোলা ইউপি চেয়ারম্যান ও কলেজ গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি, ছাইকোলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম কলেজকে নিজের তালুক বানিয়েছেন। কোন নিয়মনীতির বালাই নেই এই কলেজটিতে। তিনি বলেন, এক সময় আমি সভাপতি ছিলাম, তার দূর্নীতি আর অনিয়ম না মানার কারণে সভাপতি আর থাকতে পারিনি।  সদ্য শেষ হওয়া কমিটির অভিভাবক সদস্য ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী জানান, অধ্যক্ষ তার ইচ্ছেমতোই সবকিছু করেন। হাজার হাজার টাকার কোন হিসাব নেই। মিটিং না করেই মাঝে মধ্যে আমার বাড়িতে গিয়ে নানা কথা বলে রেজুলেশনে স্বাক্ষর নিয়ে আসতো। কলেজের স্বার্থেই আমি সই করেছি। এখন শুনছি কলেজের পরিচালনা কমিটি গঠণ করা হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে আমরা কেউই কিছু জানি না।  এবিষয়ে গত ১০ জুলাই কলেজে গিয়ে কথা হয়েছিল অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলামের সাথে। অভিযোগের বিষয়ে তিনি সে সময় কোন প্রকার সদ্যুত্তর বা প্রমানাদি দেখাতে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে বলেন, বর্তমান সভাপতিকে নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করা হয়। এছাড়া ২ জন শিক্ষককে সদস্য করা হয়। নিয়ম মেনেই গভনিং বডি গঠণ করা হয়েছে। কলেজটির সভাপতি আব্বাস আলী মাষ্টার আরো জানান, নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে তফশীল ঘোষণা হয়েছে কিনা, নির্বাচন হয়েছে কিনা, নতুন কমিটি পাস হয়েছে কিনা কিছুই আমার জানা নাই। সব অধ্যক্ষ জানে। কিছু কাগজপত্রে অধ্যক্ষ আমার স্বাক্ষর নিয়ে গেছে। চাটমোহর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মগরেব আলী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত করলাম। প্রতিবেদন দাখিল করবো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈকত ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোপূর্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক ফাহিমা সুলতানা জানিয়েছিলেন,নিয়ম না মেনে,ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবক সদস্য, শিক্ষকদের না জানিয়ে কমিটি গঠনের কোন সূযোগ নাই। এমনটি হয়ে থাকলে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসী অধ্যক্ষেরঅনিয়ম ও দূর্নীতির তদন্তপূর্বক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আইনগতব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

Share.

Leave A Reply