কারিগরি জটিলতায় ভারতের চন্দ্রযান-২ উৎক্ষেপণ বিলম্বিত

0

এফএনএস আর্ন্তজাতিক: কারিগরি সমস্যার কারণে ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্র অভিযানের উৎক্ষেপণ নির্ধারিত সময়ের প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে স্থগিত করা হয়েছে।

ত্রুটি ধরা পড়ায় উৎক্ষেপণের ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে মিশনটি স্থগিত করা হয় বলে ভারতের মহাকাশ সংস্থার বরাতে জানিয়েছে বিবিসি।

স্থানীয় সময় সোমবার ভোররাত ২টা ৫১ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ স্টেশন থেকে চন্দ্রযান-২ এর উৎক্ষেপণের কথা ছিল। কিন্তু শেষ মূহুর্তে সমস্যা ধরা পড়ায় তা স্থগিত হয়ে যায়। শিগগিরই উৎক্ষেপণের নতুন একটি তারিখ নির্ধারণ করার কথা রয়েছে।

যাত্রা শুরুর নির্ধারিত সময়ের ২০ ঘণ্টা আগে রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫১ মিনিট থেকে এ অভিযানের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছিল।

তিন দশমিক আট টন ভারী মহাকাশযানটিকে বহন করে কক্ষপথে নিয়ে যেতে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট জিএসএলভি এমকে থ্রি ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিয়েছিল।

৬৪০ টন ওজনের, ১৫ তলা সমান উচ্চতার এ রকেটের নাম দেয়া হয়েছে ‘বাহুবলী’। এই রকেটটিতেই ত্রুটি ধরা পড়ে। রকেট থেকে জ¦ালানি লিক করছে বলে ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন বলে খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

এ মহাকাশ অভিযান সফল হলে ভারত হবে চন্দ্রজয়ী চতুর্থ দেশ। এখন পর্যন্ত কেবল রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন), যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সংক্ষিপ্ত এ তালিকায় নিজেদের নাম লিখিয়েছে।

চাঁদের যে অংশে চন্দ্রযান-২ এর নামার কথা এর আগে সেখানে কোনো দেশের কোনো মহাকাশযান নামেনি।

২০০৮ সালে ভারত প্রথম চাঁদের উদ্দেশ্যে মহাকাশযান পাঠিয়েছিল। সেবার চাঁদের কক্ষপথে যাওয়া চন্দ্রযান-১ পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহে থাকা হাইড্রক্সিল আয়নের হদিস পেয়েছিল।

দ্বিতীয় অভিযানের উদ্দেশ্য, চন্দ্রপৃষ্ঠের বালিকণায় থাকা খনিজ ও মৌল পদার্থ সম্বন্ধে জানা।

চন্দ্রযান-২ এর অরবিটার, ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ ও রোভার ‘প্রজ্ঞান’ ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি, এ কারণে এ মহাকাশযাত্রার খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম পড়ছে।

চাঁদের বুকে পা রাখতে চন্দ্রযান-২কে তিন দশমিক ৮৪ লাখ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা। রওনা হওয়ার দেড় মাস পর চাঁদের পিঠে ‘বিক্রম’ এর নামার কথা। এরপর এ ল্যান্ডার থেকে বেরিয়ে আসবে ২৭ কিলোগ্রাম ওজনের ‘প্রজ্ঞান’।

ল্যান্ডারটি নেমে আসার সময় অরবিটারটি থেকে চন্দ্রপৃষ্ঠের দূরত্ব থাকবে মাত্র ১০০ কিলোমিটার।

চাঁদে অনুসন্ধান চালানোর পর রোভার ‘প্রজ্ঞান’ সেখানেই অকেজো হয়ে পড়বে; তবে তার তথ্য চলে যাবে ভারতের মহাকাশ কেন্দ্রে।

অরবিটারটি এরপরও মহাকাশে থাকবে; চাঁদকে প্রদক্ষিণের পাশাপাশি পাঠাবে একের পর এক ছবি।

অভিযানটি সফল হলে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তুলনায় ২০ ভাগের একভাগ অর্থ বরাদ্দ পাওয়া ইসরোর জন্য এ হবে বিরাট মাইলফলক, বলছে এনডিটিভি।

Share.

Leave A Reply