উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণে নাচ গানের অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার : চাটমোহর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইউআরসি ভবনে বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে চলে নাচ-গানের অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে পৌর সদরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন উপজেলা রিসোর্স সেন্টার (ইউআরসি) ভবনে।

এসময় একই জায়গায় অবস্থিত মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণে ছিল মগ্ন। ইউআরসি ভবন থেকে সাউন্ডবক্সে উচ্চস্বরে ভেসে আসছিল নানা ধরণের আধ্যাত্মিক ও হিন্দি গান। সঙ্গে চলছিল নাচানাচিও। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত হলেও কিছু বলার উপায় ছিল না। কারণ সেখানে নাচ-গান করছিলেন খোদ উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলামসহ সহকারী শিক্ষা অফিসারগণ। এতে সামিল হন বেশ কয়েকজন নারী শিক্ষকও। তবে সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায় গান-বাজনা ও নাচানাচি। কেউ কেউ মোবাইলে সেই নাচের ভিডিও করতে দেয়া যায়।

জানা যায়, বিষয় ভিত্তিক বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ের ওপর ৬ দিনের প্রশিক্ষণ চলছে। বিষয়টি দৃষ্টিকটু দেখালেও এভাবেই গত কয়েকমাস ধরে ইউআরসি ভবনে প্রশিক্ষণের নামে চলছে গান-বাজনা ও নাচানাচি। এ নিয়ে আশেপাশের বাসিন্দারাও ক্ষুব্ধ। স্থানীয়রা বেশ কয়েকবার প্রতিবাদ করলেও কোনও লাভ হয়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাস থেকে ইউআরসি ভবনে শুরু হয়েছে বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ। এতে অংশ নিচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এই প্রশিক্ষণ। কিন্তু প্রশিক্ষণ চলাকালীন সেখানে দলবল নিয়ে হাজির হয়ে থাকেন শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষা অফিসার কামরুল ইসলাম, ফরিদুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন এবং সহকারী ইনস্ট্রাকটর কল্যাণ কুমার। এতে যোগ দেন শিক্ষা অফিসারের পছন্দের আরো বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক। কোনো নিয়মনীতি না মেনে প্রতিদিনই শুরু হয় উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্সে গান। পাশাপাশি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে চলে নাচ। যারা নাচ-গান করতে পারে না তাদের প্রশিক্ষণে নাম দেন না শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলাম-এমন অভিযোগ অনেকের। তাদের এমন আচরণে ক্ষুব্দ হয়ে ইনস্ট্রাকটর মো. মাহমুদুল হাসানও। তিনি প্রতিবাদ করলেও শিক্ষা অফিসারের সাথে পেরে ওঠেন না। খোদ শিক্ষা অফিসারের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয়রা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ক’দিন আগে আমার বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েঅসুস্থ ছিলেন। উচ্চস্বরে গানের আওয়াজ আসায়, বারণ করতে গিয়ে নানা কথা শুনতে হয়েছে। প্রশিক্ষণে উপস্থিত থাকা সহকারী ইনস্ট্রাকটর কল্যাণ কুমার সরকার বলেন, ‘গান করার নিয়ম আছে। তবে নাচানাচি করার সুযোগ নেই।’ এটা করা ঠিক হয়নি। তবে শিক্ষা অফিসার স্যার থাকেনতো কিছু বলা যায় না। শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের অসুবিধার কথা স্বীকার করেন।’ ইনস্ট্রাকটর মাহমুদুল হক বলেন, আমি এসময় বাইরে ছিলাম। আসলে যারা এসব করে তাদেরকে বহুবার বারণ করা হয়েছে। কিন্তু তারা কেউ শোনেন না।’ উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ট্রেনিংয়ের কার্যক্রম হিসেবে গান করা হয়। আর গানের তালে তো একটু নাচানাচি হয়ই। তবে ইউআরসি ভবন এবং স্কুলটি একসাথে হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের কিছু সমস্যা হয়। তাই বলে তো আর ট্রেনিং বন্ধ করা যায় না। তবে এরপর থেকে বিষয়গুলো মেনে চলা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এগুলো করা কোনো মতেই ঠিক হয়নি। বিষয়টি আমি গুরত্বসহকারে দেখছি এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Share.

Leave A Reply