ইট ভাটার কারনে গাছের চারা হচ্ছে নষ্ট ঘনবসতিপূর্ণ ৩ ফসলি জমির ক্ষতির অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার : সুজানগরের কামারদুলিয়া গ্রামের একটি ইটের ভাটার কারনে ভাটার ১ শ গজের মধ্যে থাকা সরকার অনুমোদিত বোর‌্যাকস্ গ্রামীণ মডেল নার্সারীর লাখ লাখ চারা নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীর। এছাড়াও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই ইটভাটার ২৫ গজের ভেতরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৫ গজের ভেতরে ঘনবসতি, ৩ ফসলি কৃষি জমি রয়েছে। এলজিইডির রাস্তার সাথে অবস্থিত এই ইট ভাটাটি। এলাকাবাসীর বারবার আবেদনের পরে স্থানীয় প্রশাসন একটু নড়ে চড়ে বসলেও,পরবর্তিতে আর কোন পদক্ষেপের সুর মেলেনা বলে অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মানুষ। এবিষয়ে কামারদুলিয়া গ্রামের মরহুম ইসলাম শেখের ছেলে বারেক শেখ গেল ২ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষন করে আবেদন করলে সেই আবেদনে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় কার্যকরি ব্যবস্থা নিতে বলেন। একইদিন পুলিশ সুপারের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার সুজানগর থানার ওসিকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আবেদনে সুপারিশ করেন। এদিকে বোর‌্যাকস গ্রামীণ মডেল নার্সারী ও খামারের মালিক কামারদুলিয়া গ্রামের আব্দুল করিম শেখের ছেলে কামরুল হাসান জানান, তার নার্সারী ও খামারটি বিশ বিঘা জমির ওপরে প্রতিষ্ঠিত। নার্সারীর একদম সংলগ্ন স্থানে স্থানীয় কুরবান আলী ইটভাটা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। শুরুর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসককে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষনিক মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভাটাটি বন্ধ করে দেন। এর কিছুদিন পরেই ভাটাটির নির্মাণ কাজ আবারো শুরু করা হয়। এখবর জেনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষনিক মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পানি দিয়ে ভিজিয়ে ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। দ্বিতীবারের মতো ভাটার কাজ বন্ধ থাকার পরে ফের আবারো কার্যক্রম শুরু করে ভাটার মালিক। এদিকে ৯৯ নং কামারদুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও একই গ্রামের কানু মৃধার ছেলে হান্নান মৃধা জানান, এখান ভাটা হওয়ার কারনে তাদের অনেক সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের ২৫ গজের মধ্যে এই ভাটা বন্ধের দাবিতে তারাসহ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে জনবান্ধব জেলা প্রশাসক ভাটাটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন ভাটা মালিক। এদিকে এবিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের বগুড়াস্থ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান জানিয়েছেন, পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিষয়ক কমিটির ৮২ তম সভায় কার্যবিবরনীর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইট ভাটাটির ১/২ কি: মি: ব্যাসার্ধের মধ্যে এলজিইডির নির্মিত রাস্তা থাকার কারনে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রন আইন অনুযায়ী ইট ভাটার অবস্থান গ্রহনযোগ্য নয় বিধায় সুজানগরের কামারদুলিয়ার মেসার্স কে এস বি ব্রিকস এর অনুকুলে ছাড়পত্রের আবেদন মঞ্জুর করা হয়নি। ফলে বিদ্যমান স্থানে ইট ভাটার কোন প্রকার কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে তাঁতীবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মৃধা বলেন ঘটনাটি সত্য এবং অভিযোগকারীর অভিযোগও সত্য। এখানে ভাটা থাকার কারনে জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখ রয়েছে। একপাশে বিদ্যালয় অপরপাশে এলাকার স্বনামেখ্যাত একটি নার্সারী। যা উপযোগী পরিবেশ নয়। আর এই নার্সারী বেশ কয়েকবার পুরস্কৃত হয়ে এলাকার সুনাম বৃদ্ধি করেছে। ফলে এই নার্সারীর স্বার্থ সংরক্ষন করাসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী পরিবেশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রশাসনের এবিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসন সব সময় জনস্বার্থে যে কেন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহনে পিছপা হবে না। বিষয়টি তিনি অবহিত আছেন এবং অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি। জেলা প্রশাসন সাধারন মানুষের কল্যাণে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অপরদিকে এই এলাকার সাধারন মানুষ জনস্বার্থে বিষয়টির কঠোর হস্তক্ষেপের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে প্রশাসনের দিকে।

Share.

Leave A Reply