আমেরিকান ক্রিকেটে ওয়ানডের সাবেক দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান

0

এফএনএস স্পোর্টস: মাত্র ২৯ বছর বয়সেই ওয়ানডের সাবেক দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান বিদায় বলে দিলেন কিউই ক্রিকেট দলকে। যোগ দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে। ২০১৪ সালের নববর্ষের সকালে একটা ঝড় উঠেছিল ক্রিকেট বিশ্বে। আসলে ব্যাটে ঝড় তুলেছিলেন এক কিউই ক্রিকেটার। সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কুইন্সটাউনে মাত্র ৩৬ বলে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন কোরি অ্যান্ডারসন। ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে ৩৭ বলে সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়া শহীদ আফ্রিদিকে সরিয়ে দিয়েছিলেন সিংহাসন থেকে। শীর্ষে অবশ্য বেশিদিন থাকা হয়নি এই অলরাউন্ডারেরও। বছর খানেকের মধ্যেই ওয়ানডের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটা ছিনিয়ে নেন দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স।  সেঞ্চুরি করতে তার লাগে ৩১ বল, প্রতিপক্ষ ওই ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রেকর্ড হিসেবে ওটাই এখনও টিকে আছে। তবে অ্যান্ডারসনকে এখনও ভোলেনি ক্রিকেট বিশ্ব। সেই অ্যান্ডারসন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে পাড়ি জমালেন আমেরিকায়। সেখানে মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) খেলবেন বলে তিন বছরের চুক্তি করেছেন। বারবার চোটে পড়া শরীরটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ধকল নিতে পারছে না বলেই নিউজিল্যান্ড দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন অ্যান্ডারসন। পেস বোলিং এই অলরাউন্ডার নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন ১৩ টেস্ট, ৪৯ ওয়ানডে ও ৩১টি টি-২০ ম্যাচ। যার মধ্যে ২০১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালটা অনেক গর্বের স্মৃতি। সব মিলিয়ে ৯৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২টি সেঞ্চুরি ও ১০টি হাফসেঞ্চুরির সৌজন্যে ২২৭৭ রান করেছেন, উইকেট নিয়েছেন ৯০টি। গত দুই বছরে কোনও সংস্করণেই নিউজিল্যান্ড দলে জায়গা পাননি। নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বশেষ একটি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন ২০১৮ সালের নভেম্বরে। কিউই দলের হয়ে আরও বেশি ম্যাচ খেলতে না পারার একটা হতাশা ঝরেছে তাই অ্যান্ডারসনের কন্ঠে, ‘নিউজিল্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করাটা আমার জন্য ছিল বিশাল সম্মানের ব্যাপার। আরও কিছু ক্রিকেট খেলে আরও কিছু অর্জন করতে পারলে  ভালো লাগতো। কিন্তু কখনও কখনও এমন মুহূর্ত আসে যা আপনাকে ভিন্ন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেয়।’ আমেরিকা প্রবাসী বাগদত্তার কারণেও নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ছেড়ে আমেরিকায় থিতু হতে উদ্ধুদ্ধ হয়েছেন অ্যান্ডারসন, ‘সিদ্ধান্তটি আমার জন্য সহজ ছিল না। নিজেকে আমি কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলাম। এখন আমি কী করবো অথবা পরবর্তী দুই, পাঁচ বা ১০ বছরে  অর্জন করার আছে আমার? আপনার বয়স যখন বেড়ে যাবে তখন জীবনটাকে বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন। আমেরিকায় জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা আমার বাগদত্তা ম্যারি মার্গারেটের অবশ্যই বড় ভূমিকা আছে এর পেছনে, কারণ সে আমার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে।’

Share.

Leave A Reply