আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

0

এনএনবি : আজ বুধবার চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঈদ, পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। আজ সন্ধ্যার আকাশে শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলেই রেডিও-টিভিতে বেজে উঠবে সেই চিরায়ত গান- ‘ও মন রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ…। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনা মহামারীর চলমান বিষাদময় সময়ে গতবারের মতো এ বছরও জনজীবনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদে ঈদে সেই উৎসবের আমেজ নেই। তবে ধর্মীয় আনন্দের অপেক্ষায় সবাই। আজ চাঁদ দেখা না গেলে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে আগামী শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। এবার দেশের কোনো ঈদগাহে ঈদের জামাত বা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে না।

ঈদের দিন আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে সবাই শামিল হবেন মসজিদগুলোতে। কারণ করোনাভাইরাস সংক্রমন ঠেকাতে এবার ঈদগাহ মাঠ বা উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে ঈদের নামাজ পড়তে হবে। নামাজ শেষে কারও সঙ্গে কোলাকুলি বা হাত মেলানো যাবে না। এবারের ঈদকে ঘরবন্দি মানুষের ঈদ বলে আখ্যায়িত করেছেন অনেকেই। তাদের মতে, ঈদের আনন্দ বলতে আমরা যা বুঝি তার কিছুই এবার করা যাবে না করোনা পরিস্থিতির কারণে।

আজ সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ ও শাওয়ালের চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা হবে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করবেন বলে মঙ্গলবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বাংলাদেশের আকাশে বুধবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ২৯ দিন রোজা শেষে বৃহস্পতিবার ঈদ হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে পুরো ৩০ দিন রোজা শেষে ঈদ হবে শুক্রবার।

বাংলাদেশে আকাশে কোথাও চাঁদ দেখা গেলে- ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭ নম্বরে ফোনে অথবা ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স করে জানাতে অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

মহামারীর কারণে সারা দেশে লকডাউনের বিধিনিষেধ চলছে এপ্রিল মাস থেকে। দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ ও ট্রেনও বন্ধ রাখা হয়েছে।

ঈদযাত্রার মধ্য দিয়ে ভাইরাস যাতে না ছড়ায় সেজন্য সবাইকে যার যার কর্মস্থলের এলাকায় ঈদ করতে বলা হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে। তারপরও অনেকে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির পথে ছুটছেন।

গত কোরবানির ঈদের মত এবার রোজার ঈদেও জামাত হবে কেবল মসজিদে, আর তাতে অংশ নিতে হবে বিধিনিষেধ মেনে।

সবাইকে বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে যেতে হবে মাস্ক পরে। কাতারে দাঁড়াতে হবে দূরত্ব রেখে। নামাজ শেষে কোলাকুলি বা হাত মেলানো যাবে না। ঈদগাহ বা খোলা মাঠে ঈদের জামাত হবে না।

সেইসঙ্গে মসজিদে ঈদ জামাত আয়োজনের ক্ষেত্রে সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বেশ কিছু শর্ত দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব নির্দেশনা না মানলে ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এমপি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা পৃথক বাণীতে দেশবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্ব মুসলিমের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

যারা এক মাস রোজা রেখে অভুক্ত থাকার কষ্টকে অনুভব করেছেন, নামাজ, তারাবিহ, ইবাদত-বন্দেগি ও ইসলামের অনুশাসন পালন করেছেন, তাদের জন্য এ ঈদ আনন্দ বেশি উপভোগের, উচ্ছ্বাসের ও শান্তির। তাদের জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের এক মহাপুরস্কার হচ্ছে ঈদ। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা মতে, এক মাস রোজা রাখার পর মুসলমানরা যখন নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবি তথা পছন্দের পোশাক পরে, দেহে আতর-খুশবু মেখে ঈদগাহে যান, তখন ফেরেশতারা তাদের সংবর্ধনা জানান। স্বর্গীয় সব বাণীতে তাদের অভিনন্দিত করা হয়। ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য এক সর্বজনীন ধর্মীয় উৎসব তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, শাসক-শাসিত ও আবাল-বৃদ্ধবণিতা সবার জন্য ঈদের আনন্দ যেন সমান ও ব্যাপক হয়, ইসলামে সেই ব্যবস্থা রয়েছে। পবিত্র রমজানে বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এবং দান-খয়রাত করলে, জাকাত ও ফিতরা প্রদান করলে দরিদ্ররা ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারবে বেশি। তাদের মুখেও হাসি ফুটবে এবং ঈদের ভোর আসবে তাদের জন্য আনন্দবার্তা নিয়ে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঈদের খোতবায় দান-খয়রাতকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করতেন। তাই ঈদের নামাজের আগেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা তাদের নিজ নিজ জাকাত ও সদকাতুল ফিতর (ফেতরা) আদায় করে থাকেন।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও সব ধরনের অফিস-আদালত ও দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে এ ছুটির মধ্যেই ঈদের সরকারি বন্ধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সময় সবাইকে বাসায় থাকার, জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঈদের দিন ঈদগাহ বা খোলা জায়গার বদলে বাড়ির কাছে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়তে বলেছে সরকার। সেইসঙ্গে মসজিদে ঈদ জামাত আয়োজনের ক্ষেত্রে সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বেশ কিছু শর্ত দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব নির্দেশনা না মানলে ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেয়া হবে।

শর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো যাবে না। ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে অজুর স্থানে সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদের প্রবেশ পথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান ও পানি রাখতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। ঈদের নামাজের জামাতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত কল্পে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

Share.

Leave A Reply