অ্যাপোলো ১১ : সফল চন্দ্রাভিযানের অজানা গল্প

0

এফএনএস আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মানুষের চাঁদে যাওয়ার ৫০ বছর পূর্তি দোরগোড়ায়। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই অ্যাপোলো ১১ এর চাঁদে সফল অভিযান আজও মানবজাতির এক বিস্ময়। সেদিন ৩ নভোচারীর মাইলফলক অর্জনের পেছনে লুকিয়ে আছে কিছু অজানা গল্প। অর্ধ শতক আগে চাঁদে পা রাখার সময় মার্কিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘মানুষের জন্য একটি ছোট্ট পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির বিশাল এক অর্জন’। ওই অভিযানের প্রতিকূলতাগুলো থেকেই আর্মস্ট্রংয়ের বক্তব্যের গুরুত্ব বোঝা যায়। অ্যাপোলো ১১ মিশনে যে কম্পিউটার সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছিল, তা আকারে বড় হলেও এখনকার মোবাইল ফোন তার চেয়ে হাজারগুণ শক্তিশালী। মিশনে ব্যবহার করা ‘স্যাটার্ন-ফাইভ’ রকেটটি ছিল সে সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী মহাকাশযান। তারপরও চাঁদে অবতরণের আগে জ¦ালানি নিয়ে বিপত্তি বাঁধে। ফিরতি যাত্রার জন্য জ¦ালানি ফুরিয়ে নভোচারী আর্মস্ট্রং ও অলড্রিনের মৃত্যুর আশঙ্কাও ছিল। চাঁদে পা রাখা প্রথম ব্যক্তি নিল আর্মস্ট্রংয়ের কাছে নভোচারীদের জন্য নির্ধারিত বীমা করার মতো প্রয়োজনীয় অর্থ ছিল না। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পরিবারের কাছে অটোগ্রাফযুক্ত কয়েকশ’ কাগজ রেখে যান আর্মস্ট্রং। ভেবেছিলেন, পৃথিবীতে ফিরে না আসতে পারলে অটোগ্রাফ নিলাম করে অর্থ পাবে পরিবার। ঐতিহাসিক অভিযানের পরও ৩ নভোচারী ক্যাপ্টেন পদে নির্ধারিত বেতনের বাইরে কোনো ভাতা পাননি। চাঁদে ২১ ঘণ্টা অবস্থান করে ২২ কেজি পাথর ও মাটি নিয়ে ফেরেন ৩ নভোচারী। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাদুঘর ও গবেষণাগারে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে নমুনাগুলো। অ্যাপোলো ১১ মিশনের সময় চাঁদে উজ্জ্বল প্রতিফলক রেখে আসেন নভোচারীরা। আজও ওই প্রতিফলকে লেজার রশ্মি ফেলে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব নির্ণয় করা হয়। নভোচারীদের জীবনের ঝুঁকির বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। তাই তিনি শোকাবহ একটি ভাষণও প্রস্তুত রেখেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববাসীকে সফল চন্দ্রাভিযানের খবরই জানান নিক্সন।

Share.

Leave A Reply