অপারেশন ও এক্সরে না হওয়ায় ভোগান্তিতে ভাঙ্গুড়ার সেবা প্রত্যাশী প্রায় দেড় লাখ মানুষ

0

বিশেষ প্রতিনিধি : ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ থাকে বছরের পর বছর, কোনো অপারেশন হয়না সেখানে। আর এক্সরে মেশিনটি ব্যবহার হয়না ১৪ বছর। সরকারি এ হাসপাতালে অপারেশন ও এক্সরে না হওয়ায় বছরের পর বছর ভোগান্তিতে রয়েছেন এখানকার প্রায় দেড় লাখ মানুষ। এখানে এ সুযোগ না থাকায় তারা বাইরে থেকে বেশি টাকা খরচ করে সময়ক্ষেপন করে গ্রহন করছেন সেবা। এই ভোগান্তি থেকে মুক্ত হতে চায় এখানকার সাধারন মানুষ। আর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা বলছেন তারাও চান একানে অপারেশন হোক এক্সরে হোক। কিন্তু নানা সমস্যাকে সাথে নিয়ে পথ চলছেন তারা। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দৃষ্টিনন্দন তিন তলা ভবনের দ্বিতলে অবস্থিত অপারেশন থিয়েটারটি সারা বছরই থাকে তালা বদ্ধ। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিযেটারটি চালু হবে কবে? এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। এটি বন্ধ থাকার ফলে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বছরের পর বছর ধরে প্রসূতির মা’দের সিজারিয়ানের মতো অপারেশনও হচ্ছে না । এই উপজেলার বাসিন্দারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে বেসরকারি ভাবে স্থানীয় একাধিক ক্লিনিকে অপারেশন করাতে বাধ্য হচ্ছেন। সেই অপারেশনের খরচ যোগাতে হিমসিম খাচ্ছেন অনেকে। উপজেলার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারটি চালু করতে স্থানীয়রা উধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়,সরকার স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিকায়ন করে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয় ২০১৫ সালে । মূল ভবনের পাশে আরও একটি দৃষ্টিনন্দন তিনতলা ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছিল একই বছরে । ওই বছরই তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী  আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দৃষ্টিনন্দন ভবনটির উদ্বোধন করেছিলেন । মূলত তখন থেকেই এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিক তিনতলা ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্প্রসারিত হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করেও আসছেন। এই ভবনের দ্বিতলায় রয়েছে অপারেশনের সুবিধা সম্বলিত একাধিক এয়ারকন্ডিশনার (এসি) যুক্ত একটি সজ্জিত অপারেশন থিয়েটার। কিন্তু সেই অপারেশন থিয়েটার আজ অবধি অপারেশনের জন্য চালু হয়নি । সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রদেয় অপারেশন কাজের জন্য যন্ত্রপাতি ইত্যেমধ্যে নষ্ট হতে বসেছে। বর্তমানে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন প্রেষণেসহ ১৩ জন এমবিবিএস ডাক্তার রয়েছেন। নার্স, ব্রাদারও রয়েছেন ১৯ জন। তবে এন্সেথেসিয়া প্রয়োগের ডাক্তার (অবস), অপারেশন কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জীবানু মুক্ত করার ব্যবস্থা না থাকার কারণে সারা বছরই তালাবদ্ধ অপারেশন থিয়েটারটিতে অপারেশন কার্য্যাক্রম হচ্ছে না। সে কারণে অপারেশন থিয়েটারে থাকা লক্ষ লক্ষ টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে বসেছে। অসহায়, দরিদ্র রোগীরা বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশন করে তার ব্যায় মিটাতে প্রতিনিয়ত হিমসিম খাচ্ছে । ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের যে প্রচেষ্টা তা এ উপজেলার ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিমত বিশিষ্ট জনের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণ হওয়া প্রয়োজনও বলে মত দেন তারা। অপরদিকে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে এক্স-রে যন্ত্র। নেই চালানোর জন্য একজন রেডিওগ্রাফার। ফলে উপজেলার একটি  পৌরসভা এবং ৬টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ এক্স-রে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটি স্থাপনের ৫ বছরের মাথায় ২০০০ সালের ১৪ অক্টোবর একটি এনালগ এক্স-রে যন্ত্র চালু করা হয়। এরপর ২০০৩ সালের ১৯ মে এক্স-রে যন্ত্রটি বিকল হয়ে যায়। পরে টেকনিশিয়ানরা এক্স-রে যন্ত্রটি মেরামতে ব্যর্থ হলে, দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর বন্ধ থাকে এক্স-রে সেবা। ২০১৫ সালে নভেম্বর মাসে আরেকটি ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র (সিআর) বরাদ্দ পায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু চালুর দুই মাসের মাথায় সেটিও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতালের রেডিওগ্রাফার বদলি হয়ে চলে গেছেন অন্যত্র । দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটির এক্স-রে যন্ত্রটি নষ্ট থাকায় সেবা পাচ্ছে না এলাকাবাসি। তাঁরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে শহরের বেসরকারি বিভিন্ন রোগনির্ণয় কেন্দ্র থেকে এক্স-রে করাচ্ছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম জানান, অপারেশন এর যন্ত্রপাতি জীবানু মুক্ত করার যথাযথ ব্যবস্থা ও এন্সেথেসিয়া প্রয়োগ সম্পর্কিত ডাক্তার (অবস) না থাকার কারণে এখানে অপারেশন কার্য্য সম্পাদন করা যাচ্ছে না। এছাড়াও রেডিওগ্রাফার না থাকায় এক্স-রে যন্ত্রটি চালু করা যাচ্ছে না। একজন রেডিওগ্রাফার পেলে এক্স-রে টি মেরামত করে চালু করা যেত। তিনি এও জানান, এখানকার প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তিনিও চান, এখানে অপারেশন হোক, এক্সরে হোক, এটা তো তার নিজের জন্যও একটা ক্রেডিট। তার আন্তরিকতার কোনো ধরনের কমতি নেই। তিনি তার উর্ধ্বতন মহলের সাথে এসব সমস্যা নিয়ে নানা সময়ে কথা বলছেন ও পত্রে প্রেরন করছেন , যাতে এসব সমস্যার সমাধান দ্রুত হয়ে যায়। আর সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী বললেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অচিরেই একজন রেডিওগ্রাফার এখানে যাতে যোগদান করে ও এ্যানিসথেসিয়া চিকিৎসকও আসে, সে বিষয়ে চেষ্টা করছেন তিনি। সরকারি এই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ও এক্সরে বিভাগটি চালু হোক এমন প্রত্যাশা এখানকার সাধারন মানুষের। সরকারের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উচ্চ মহল এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন এটাই চান এই উপজেলার বাসিন্দারা।

Share.

Leave A Reply