অন্তঃসত্ত্বা নারীর টিকার বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত চায় হাইকোর্ট

0

এনএনবি : অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত জানতে চায় হাইকোর্ট।

সে জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

অন্তঃসত্ত্বাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট আবেদনের শুনানিতে  বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ মৌখিক আদেশ দেয়।

আদালতে রিট শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও বিপুল বাগমার।

শুনানির এক পর্যায়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিচারক বলেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ব্যাপারে যদিও গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রেসের সামনে বলেছেন যে টিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আমার মনে হয় এ বিষয়টির একটি সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসা প্রয়োজন। অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলবেন, তিনি যাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যাতে তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে দেয়। যেহেতু মন্ত্রী সাহেব বলেছেন, সেহেতু আমরা ফরমাল কোনো আদেশ দিচ্ছি না। অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেব যাতে যোগাযোগ করেন এবং এ বিষয়ে একটা স্পষ্ট বক্তব্য আসে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস এ সময় বলেন, আদালতের কার্যক্রম শেষ হলেই তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিষয়টি জানাবেন। এরপর রিট আবেদনের শুনানি মুলতবি রাখে আদালত।

জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, আদালত কোনো নির্দেশনা দেননি। মামলাটি স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রেখেছেন। আর আমাকে বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেবের সাথে কথা বলতে, যেহেতু সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারকরা বিষয়টি (অন্তঃস্বত্ত্বা নারীদের টিকা দেওয়া) ইতিবাচকভাবে চিন্তা করছে।

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবীর পক্ষে স্বাস্থ্যসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআরের পরিচালককে উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছিল।

নোটিসের জবাব না পেয়ে গত ৩১ জুলাই হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করা হয়। আবেদনকারীদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা একজন নারী আইনজীবীও আছেন। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।

দেশে গত ফেব্রুয়ারি মাসে যখন গণটিকাদান শুরু হল, তখন থেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় বলে এসেছে, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের এ টিকা দেওয়া হবে না, কারণ তাদের ওপর এ টিকার পরীক্ষামূলক কোনো প্রয়োগ কোথাও হয়নি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশে বছরে ৩৫ লাখ নারী গর্ভধারণ করেন, ফলে তারা কোভিড টিকার বাইরে থাকছেন এখনও।

অবশ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও কোভিড টিকা দেওয়া হচ্ছে। টিকার কারণে তাদের বাড়তি কোনো সমস্যা হওয়ার কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত কোথাও মেলেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি), যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট কমিটি অন ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন এবং অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন ইমিউনাইজেশন অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও কোভিড টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে, কারণ তাতে ঝুঁকি কমে।

আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, যেখানে টিকা নিলে বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কার চেয়ে উপকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সেখানে অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও কোভিড টিকা নেওয়াই উচিত।

Share.

Leave A Reply