৩২ বছরের বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ

0

এফএনএস স্পোর্টস: করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ১১৬ দিন স্থগিত থাকার পর ক্রিকেটকে মাঠে ফেরায় ইংল্যান্ড। করোনার আবহের মধ্যেও দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে তিন টেস্টের সিরিজ আয়োজন করে ইংলিশরা। কিন্তু ক্রিকেট ফেরানোর ম্যাচে লজ্জাই পেতে হলো ইংল্যান্ডকে। সাউদাম্পটনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যাটসম্যান-বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুন্যে ৪ উইকেটে জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। ফলে সিরিজ জয়ের দারুন এক সুযোগ ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সেই সাথে ইংল্যান্ডের মাটিতে ৩২ বছর সিরিজ জিততে না পারার বন্ধ্যাত্ব ঘোচানোর সুযোগও পাচ্ছে জেসন হোল্ডারের দল। দ্বিতীয় টেস্ট জিতে ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে নিয়ে আজ মাঠে নামছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সিরিজ বাঁচাতে সমতা লক্ষ্য ইংল্যান্ডের। ম্যানচেষ্টারে আজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে বিকেল ৪টায়। ১৯৮৮ সালে ইংল্যান্ড সফরে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একচেটিয়াভাবে প্রাধান্য বিস্তার করে খেলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিলো ক্যারিবীয়রা। এটাই ছিল ইংল্যান্ডের মাটিতে ক্যারিয়দের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ জয়। এরপর ইংল্যান্ডের মাটিতে আটটি টেস্ট সিরিজ খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কোনটিতেই জিততে পারেনি তারা। আটটির মধ্যে দু’টি ড্র করে ক্যারিবীয়রা। সেই দ্ইু সিরিজের স্মৃতিতেও এখন ধুলোর বসবাস। ১৯৮৮ সালের সর্বশেষ সিরিজ জয়ের পর, পর-পর দু’বারের সফরেই ড্র করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ঐ দু’টি সিরিজ ছিলো ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে। এরপর ইংল্যান্ড সফরে টানা ছয় সিরিজই হারে ক্যারিবীয়রা। এবার সিরিজ জয়ের ভালো সুযোগ তৈরি করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজই। করোনার কারণে দীর্ঘদিন পর শুরু হয় ক্রিকেট। ক্রিকেটের পুর্নজন্মের প্রথম ম্যাচেই দারুন এক জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অথচ সিরিজ শুরুর আগে স্পষ্টভাবে ফেভারিটের তকমাটা ছিলো ইংল্যান্ডের গায়ে। আইসিসি টেস্ট র‌্যাংকিংএর চতুর্থস্থানে আছে ইংল্যান্ড। আর র‌্যাংকিং তালিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান অষ্টম। শুধুমাত্র র‌্যাংকিংই নয়, পারফরমেন্স ও নিজ দেশের কন্ডিশনের বিচারে ফেভারিট ছিলো ইংল্যান্ড। কিন্তু বিশ্বকে চমকে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সাউদাম্পটনে ব্যাটসম্যান-বোলারদের নৈপুন্যে ম্যাচ জয়ের স্বাদ নেয় ক্যারিবীয়রা। টস হেরে প্রথমে বল হাতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক জেসন হোল্ডার সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেন। বল হাতে প্রথম ইনিংসে ৪২ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। এ ছাড়া শ্যানন গাব্রিয়েল নেন ৪ উইকেট। ফলে ২০৪ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। ব্যাট হাতে ব্যাটসম্যানদের বদৌলতে প্রথম ইনিংসে ৩১৮ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে প্রথম ইনিংস থেকে ১১৪ রানের লিড পায় ক্যারিবীয়রা। ১১৪ রানে পিছিয়ে থেকে ম্যাচে ফেরার লড়াই শুরু করে ইংল্যান্ড। কিন্তু এবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস বোলারদের বিপক্ষে রানের পাহাড় গড়তে পারেনি ইংল্যান্ড। স্বাগতিকদের বড় ইনিংস খেলতে দেননি গাব্রিয়েল-স্পিনার রোস্টন চেজ ও পেসার আলজারি জোসেফ। গাব্রিয়েল ৫টি, চেজ-জোসেফ ২টি করে উইকেট নেন। ৩১৩ রানে অলআউট হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০০ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় ইংল্যান্ড।

জয়ের জন্য ২০০ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই বিপদে পড়েছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৭ রানে ৩ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। পরে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দলকে খেলায় ফেরান চেজ ও জার্মেই ব্ল্যাকউড। চেজ ৩৭ রানে থামলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের পথ সহজ করেন ব্ল্যাকউড। ১৫৪ বলে ১২টি চারে ৯৫ রান করেন ব্লাকউড। পাঁচ রানের জন্য ব্ল্যাকউড সেঞ্চুরি বঞ্চিত হলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় নিশ্চিত করেন জন ক্যাম্পেবেল ও হোল্ডার। সিরিজ এগিয়ে গিয়ে জয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চান ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক হোল্ডার। সিরিজ জয় নিয়েই এখনই ভাবতে চান না তিনি। হোল্ডার বলেন, ‘আমরা সিরিজ নিয়ে ভাবছি না। ম্যাচ জিতলে, সিরিজ জয় এমনিতেই হবে। আমরা জয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই। প্রথম টেস্টে যেভাবে খেলেছি, তার চেয়ে আরও বেশি আক্রমানত্মক খেলতে হবে আমাদের। দলের সবাই নিজেদের দায়িত্ব সর্ম্পকে সজাগ। সাউদাম্পটনে যেভাবে সতীর্থরা খেলেছে, তাতে আমি খুশী। আশা করছি, ম্যানচেষ্টারেও আমরা সফল হতে পারবো।’ সিরিজে সমতা আনতে জয় ছাড়াই অন্য কিছুই ভাবছেন না ইংল্যান্ডের কোচ ক্রিস সিলভারউড। তিনি বলেন, ‘প্রথম টেস্টে পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে পারিনি আমরা। পারফরমেন্সও ভালো ছিলো না। দ্বিতীয় টেস্টে আমরা ঘুড়ে দাড়াতে চাই। সিরিজে সমতা আনতে জয় ছাড়াই অন্য কিছু ভাবার অবকাশ নেই আমাদের।’ দ্বিতীয় সন্তানের আগমনে প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি নিয়মিত অধিনায়ক জো রুট। তবে দ্বিতীয় টেস্টে খেলবেন তিনি। এ ছাড়া অভিজ্ঞ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডও ফিরতে পারেন দলে। প্রথম টেস্টে ব্রডকে একাদশে না রেখে, সমালোচনার মুখে পড়ে ইংল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট। ইংল্যান্ড দল : জো রুট (অধিনায়ক), বেন স্টোকস জেমস এন্ডারসন, জোফরা আর্চার, ডোমিনিক বেস, স্টুয়ার্ট ব্রড, ররি বার্নস, জশ বাটলার, জাঁক ক্রাউলি, জো ডেনলি, ওলি পোপ, ডম সিবলি, ক্রিস ওকস ও মার্ক উড।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল : জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), জার্মেইন ব্ল্যাকউড, এনক্রমাহ বোনার, ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট, শামারা ব্রুকস, জন ক্যাম্পবেল, রোস্টন চেজ, রাখিম কর্নওয়াল, শেন ডওরিচ, চিমার হোল্ডার, শাই হোপ, আলজারি জোসেফ, শ্যানন গাব্রিয়েল, রেমন রেইফার ও কেমার রোচ।

 

Share.

Leave A Reply