১৩ মার্চ খুলছে না ঢাবির হল, পরীক্ষাও স্থগিত

0

এনএনবি : স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্বের পরীক্ষার্থীদের জন্য মার্চের ১৩ তারিখ থেকে আবাসিক হলগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পরীক্ষার রুটিনও বাতিল করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত জানানোর পর মঙ্গলবার একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা ডেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মার্চের মধ্যে হল খোলার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা বেঁধে দেওয়া ৭২ ঘণ্টা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর গত বছরের মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

এর মধ্যে অনলাইনে ক্লাস নেয়া শুরু হলেও আবাসন সঙ্কটে থাকা শিক্ষার্থীরা হল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।

রোববার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হলের তালা ভেঙে ভেতরে অবস্থান নিলে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও তার আঁচ লাগে।

সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও অমর একুশে হলের প্রধান ফটকের শিকল খুলে ভেতরে ঢুকে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

এরপর শিক্ষার্থীরা ১ মার্চের মধ্যে হল খোলার সিদ্ধান্ত নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার একাডেমিক কাউন্সিলের সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান এখনই হল খুলতে না পারার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মহামারী পরিস্থিতিতে বিচ্ছিন্নভাবে, সমন্বয়হীন সিদ্ধান্ত নেওয়া জাতির জন্য হুমকি। সেটি স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ায়, প্যানডেমিক রুলস-রেগুলেশন সেটি পারমিট করে না। তাই ১৩ মার্চকে কেন্দ্র করে আমাদের যে ঘোষণা ছিল, তা আর থাকছে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিকার আওতায় এনে ১৭ মে থেকে হলে ওঠার ব্যবস্থা করা হবে।’

হল খোলার পর শিক্ষার্থীদের দুই সপ্তাহের প্রস্তুতির সময় দিয়ে পরীক্ষাগুলো নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্বের পরীক্ষার্থীদের জন্য মার্চের ১৩ তারিখ থেকে আবাসিক হলগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

হল খোলার পর পরীক্ষার্থীদের দুই সপ্তাহ প্রস্তুতির সময় দিয়ে ২৭ মার্চ থেকে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিলো।

তবে সোমবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জানান, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ঈদুল ফিতরের পর ২৪ মে থেকে শুরু হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল আগামী ১৭ মে থেকে খুলে দেওয়া হবে।

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বড় কোনো পরীক্ষা এই মুহূর্তে আমরা আর নেব না। শিক্ষার্থীদের সম্মতি, সামর্থ্য ও সুরক্ষা সাপেক্ষে কোনো বিভাগ বা ইনস্টিটিউট চাইলে সীমিত আকারে পরীক্ষা নিতে পারবে। অনুষদ ও বিভাগ সমন্বয় করে ১৭ মে’র দুই সপ্তাহ পর থেকে পরীক্ষা নেয়া হবে। যেহেতু হল খোলা সম্ভব হচ্ছে না, সেহেতু ওই পরীক্ষার নেওয়ার ঘোষিত রুটিনও বাতিল করা হয়েছে।

অধিভুক্ত সাত কলেজের পরীক্ষার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, সাত কলেজের পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রেও ১৭ মে’র পূর্বের পরীক্ষাগুলো আমাদের অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় কোনো পরীক্ষা থাকবে না। সরকারের ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রেটোকল আছে। সেটি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেখবে। এটা সরকারের প্রায়োরিটি।’

হল খোলার জন্য শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সবসময় যৌক্তিক অবস্থানে থাকে। নিয়ম-শৃঙ্খলা অনুসরণ করে। যখন তাদেরকে সুরক্ষা দেয়ার মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তাদের সুরক্ষা দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে, এ বিষয়টি তারা বিবেচনা করবেন। পিছিয়ে যাওয়া সময় পুষিয়ে দেয়ার প্রায়াস আমাদের থাকবে।’

প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে হল খোলার দাবিতে আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র জুনায়েদ হুসেইন বলেন, ‘আমাদের আল্টিমেটাম চলছে, ৭২ ঘণ্টা পর আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব।’

Share.

Leave A Reply