সরকারি প্রণোদনার অর্থে চেয়ারম্যানের স্বজনপ্রীতি

0

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি প্রণোদনার সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরিতে ফরিদপুর উপজেলায় ডেমড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাহফুজুর রহমান ইউনিয়নের বেশিরভাগ ওয়ার্ডে হতদরিদ্রদের নাম বাদ দিয়ে নিজের জন্মস্থান কালিয়ানি গ্রামের আত্মীয়-স্বজন ও নিকটতম লোকদেরকে তালিকাভুক্ত করেছেন। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিধাবঞ্চিত ২৫ জন হতদরিদ্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ ও গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে সরকার কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র মানুষের জন্য প্রণোদনার অর্থ ঘোষণা করেন। এতে তালিকাভুক্ত প্রত্যেক পরিবার নগদ আড়াই হাজার টাকা মোবাইল একাউন্টের মাধ্যমে পাবেন। প্রণোদনার অর্থ প্রাপ্তির তালিকা তৈরিতে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয় উপজেলা প্রশাসন। এর প্রেক্ষিতে উপজেলার ডেমড়া ইউনিয়নে নয়টি ওয়ার্ডের ৫৪৮ টি পরিবার এই সুবিধার আওতায় পড়ে। চলতি মাসের ৮ তারিখ থেকে তালিকা তৈরি ও যাচাই-বছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর ইউনিয়নের জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক গ্রামবাসীর সাথে বসে ৯০ জনের একটি তালিকা তৈরি করে চেয়ারম্যানের কাছে পেশ করে। কিন্তু চেয়ারম্যান গোপনে ওই তালিকার ৪০ জনের নাম রেখে বাকিদের নাম কেটে দেন। একইভাবে অন্যান্য ওয়ার্ডের সুবিধাবঞ্চিতদেরও তালিকা থেকে নাম কেটে দিয়ে মাহফুজুর রহমান নিজের গ্রামের আত্মীয়-সজন সহ নিকটতম ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেন। পরে বিষয়টি ইউপি সদস্য ও গ্রামবাসী জানতে পারে। তখন তারা ইউপি চেয়ারম্যানকে তালিকা সংশোধনের অনুরোধ জানান। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন কথা বলে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে সুবিধাবঞ্চিত হতদরিদ্ররা গ্রামের প্রধান ও ডেমড়া ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানকে জানান। পরে মুজিবুর রহমান সহ সুবিধাবঞ্চিতরা এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

ডেমড়া কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় এক নম্বর ওয়ার্ড। অথচ সেখানে মাত্র ৪০ জনকে তালিকাভুক্ত করে নিজের গ্রামে দ্বিগুণ তালিকাভুক্ত করেছে ইউপি চেয়ারম্যান। অন্যান্য ওয়ার্ডেও তিনি একই ঘটনা ঘটিয়েছে। তাই এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ বিষয়ে কথা বলতে ডেমড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে অভিযোগ প্রাপ্তির কথা নিশ্চিত করে ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহম্মদ আলী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি তদন্ত করতে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। এতে অনিয়ম পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share.

Leave A Reply