শীতলক্ষ্যায় লঞ্চ ডুবি নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪

0

এনএনবি : নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে ‘কার্গো জাহাজের ধাক্কায়’ লঞ্চ ডুবে নিহতদের সংখ্যা বেড়ে ২৪ জন হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক জানান, সোমবার বেলা পৌনে একটার দিকে লঞ্চটি উদ্ধার করার পর তাতে ১৯ জনের লাশ পাওয়া গেছে। এর আগে উদ্ধার করা হয় আরও পাঁচজনের লাশ।

রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার কয়লাঘাট এলাকায়  সাবিত আল আসাদ নামের লঞ্চটি একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায়। রাতেই সেখান থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা।

যাদের লাশ পাওয়া গেছে তাদের একজন শিশু আর ১৫ জন নারী। অন্যরা সবাই পুরুষ।

ইউএনও নাহিদা বলেন, স্বজনরা নিখোঁজদের যে তালিকা দিয়েছেন সেই অনুযায়ী আর নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

তবে স্বজনরা জানতে পারেননি এমন আরও কেউ নিখোঁজ থাকতে পারে বলে এলাবাসীর ধারণা।

নিহতদের চারজন হলেন- মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মালপাড়া এলাকার হারাধন সাহার স্ত্রী সুনিতা সাহা (৪০), উত্তর চরমসুরা এলাকার অলিউল্লাহর স্ত্রী সখিনা বেগম (৪৫), একই এলাকার প্রীতিময় শর্মার স্ত্রী প্রতিমা শর্মা (৫৩),  নয়াগাঁও পূর্বপাড়া এলাকার মিথুন মিয়ার স্ত্রী সাউদা আক্তার লতা (১৮)।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরী ববিকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে পাঁচ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে সোমবার উদ্ধার করা মরদেহগুলো শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিমপাড় কয়লাঘাট এলাকায় সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। নিহতদের স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করছেন। এরইমধ্যে ১৯টি মরদেহের মধ্যে পাঁচটি শনাক্তের পর স্বজনদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারি।

তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে প্রাথমিক তালিকায় থাকা ২৮ জনের মধ্যে ২৪ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। লাশগুলো স্বজনদের কাছে একে একে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও জানান, লাশ দাফন ও পরিবহনের জন্য স্বজনদের হাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার করে টাকা তুলে দেয়া হচ্ছে।

এদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর সাদেক জানান, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করে অভিযান সমাপ্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পর পর বিআইডব্লিইটিএ’র কর্মকর্তারা ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ শুরু করেন। সবার যৌথ সহযোগিতায় দুপুর সাড়ে ১২টায় ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করে নদীর পূর্ব তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। ডুবে যাওয়া লঞ্চটি সার্চ করে মৃতদহেগুলো উদ্ধার করে নৌপুলিশসহ জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে নৌ চ্যানেলটি চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মুন্সীগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীতে নৌ-দুর্ঘটনা ঘটছেই। আর এতে প্রাণ হারায় বেশিরভাগ মুন্সীগঞ্জের মানুষ। কারণ মুন্সীগঞ্জের বেশিরভাগ মানুষই নৌপথে যাতায়াত করেন। দুর্ঘটনা এড়াতে বারবার অনুরোধ করা সত্বেও রাতের বেলা লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ করা যায়নি। একের পর এক বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ হয়।

তিনি বলেন, এই বিষয়ে জাতীয় সংসদেও কথা বলেছি। তবু মৃত্যুর মিছিল থামানো যায়নি। তিনি প্রশাসনের কাছে শীতলক্ষ্যার সরু চ্যানেলে লাইটার জাহাজ নোঙর করে রাখা বন্ধ এবং নৌ দুর্ঘটনা রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

Share.

Leave A Reply