শিক্ষায় বিস্তারে আটঘরিয়ায় অনন্য দৃষ্টান্তে দেবোত্তর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

0

মাসুদ রানা:  বেলা প্রায় একটা। দেবোত্তর মডেল সরকারি প্রাথিমক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে ঢুকতে দরজার উপর ছবি রয়েছে ডক্টর শহীদুল্লাহ নামক কক্ষ। বসে আছেন প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার বেগম। পশ্চিম পাশের দেওয়ালে টানানো রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। বিদ্যালয়টিতে ঘিরে রয়েছে জাতীয় পতাকা লাল সবুজ রংয়ে। তবে আধুনিক শিক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারি দেবোত্তর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সবুজ ছায়ায় ঘেরা বিদ্যালয়ের পরিপাট ক্যাম্পাসের খেলা ধুলায় মতোয়ারা স্কুলের পোষাক পড়া কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন তাদের পাঠদান শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত চলে তাদের এক দুরন্তপনা। শুধু দুরন্তপনাই পরিস্কার পরিচ্ছনতা নিয়মণীতি আর ফলা ফলেরও ধারাবাহিক ভাবে কয়েক বছর ধরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ও বৃত্তি পরীক্ষায় বিগত বছর গুলোতে উপজেলার মধ্যে শীর্ষ স্থান অজর্ন করেছেন। উপজেলা ও জেলার পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মূলক অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। এটি পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা সদর দেবোত্তর মডেল সরকারি প্রাথীমক বিদ্যালয়ের চিত্র। সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ক্লাশ শুরুর আগে প্রতিদিন সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হওয়া অ্যাসেম্বিলিতে অংশ গ্রহন করে বিদ্যালয়ের প্রায় ৭শতাধিক কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। এক সঙ্গে শত কন্ঠে গেয়ে ওঠে জাতীয় সঙ্গীত আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালো বাসি। দেশ মাতৃকার টানে বুকে হাত রেখে শপথ নেয় জঙ্গীবাদ সন্ত্রাস বিরোধী সোনার বাংলা গড়ব। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ৬শ ৯৫জন শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা রয়েছে ৩শ ৪১ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা রয়েছে ৩শ ৫৪ জন। প্রধান শিক্ষক দেলোয়ারা বেগম সরকারি এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ  থেকে ডিগ্রী অর্জন করে তিনি এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি সহকারি ও মাধ্যমিক শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সঙ্গে ১৭জন শিক্ষক পাঠদান করে থাকেন। শরীর চর্চার জন্য রয়েছে শিক্ষক মো: আলতাফ হোসেন। জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক দেলোয়ারা বেগম তার সহকর্মীদের সময়মত স্কুলে আসা এবং ছুটি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করতে অভিভাবক ও মা সমাবেশের আয়োজন করেন। স্কুলের খাতায় সম্ভব্য অভিভাবকদের মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করে রাখেন। কোনো শিক্ষার্থী ২ থেকে ৩ দিন অনুপস্থিত থাকলে মোবাইলে খোজ খবর নেয়া সহ নিয়মিত হোম ভিজিট করতে বলেন। এমনকি প্রয়োজনে প্রধান শিক্ষক নিজেই ছুটে যার অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের বাড়ীতে। ভালো ফল পেতে বছর জুড়েই চলে দল ভিত্তিক শিক্ষাদান। ভালো ছাত্র দিয়ে অপেক্ষাকৃত দূর্বল ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে ঘঠিত দল। স্কুলের পাঠদান স্কুলেই আদায় করা হয়।  শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া সাংস্কৃতিক ও ছবি অঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ জাতীয় দিবস পালন করা হয়। স্কুলের পরিচালনা কমিটি একাজে সহযোগিতা করে থাকেন। এছাড়া নিয়ম করে চলে নানা ধরনের খেলাধূলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেধা যাচাই, বির্তক আর ছবি অঙ্কন প্রতিযোগিতা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষক না থাকলে ও সহকারি শিক্ষক আলতাফ হোসেন, আব্দুর বারী এবং আরিফুল ইসলাম এসবের নেতৃত্ব দেন। তারা বলেন এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। প্রধান শিক্ষক দেলোয়ারা বেগম জানান, ১৯৩৬ সালে ৯৬ শতাংশ জায়গার উপর দেবোত্তর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই বিদ্যালয়ে মোট দশটি শ্রেনী কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নজরুল ভবন, রবীন্দ ভবন, বন্দে আলী ভবন। তবে পড়া লেখা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা কোনো কিছুতেই পিছিয়ে নেই বিদ্যালয়টি। শতভাগ পাশ। জিপিএ-৫ ও গত দশ বছরে শীর্ষ স্থান। প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী প্রাথীমক বৃত্তি লাভ করে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য বিদ্যালয়ের মাঠ সম্পূর্ণ অনুপযোগি। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই খেলার মাঠ জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

Share.

Leave A Reply