শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিবেশ পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

0

এনএনবি : করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে প্রায় এক বছর ধরে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিবেশ-পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে স্কুল-কলেজ খোলার আগে শিক্ষক-কর্মচারীদের টিকা দিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

সোমবার মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই কথা জানান। আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যেই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা সচিবালয় থেকে বৈঠকে অংশ নেন।

সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে সব শিক্ষক ও কর্মচারীর টিকা নেয়া নিশ্চিত করতে বলেছেন। এটাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশসহ অন্যান্য বিষয়ে অন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর গত বছর ১৭ মার্চ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিছুদিন পর টিভিতে ও অলাইনে ক্লাস শুরু হলেও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি।

স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরের ক্লাসে উঠেছেন পরীক্ষা ছাড়াই। আর অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসি ও সমমানের ফলফলের ভিত্তিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়েছে।

কবে নাগাদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘না, কোনো তারিখের কথা বলা হয়নি। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে গ্রামে-গঞ্জে দেখা গেছে ছেলেমেয়েরা একটু ফ্রিলি মুভ করছে। প্রধানমন্ত্রী যেটা বলেছেন, শিক্ষক ও কর্মচারীদের টিকা আগে কনফার্ম করতে হবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তালা ভেঙে শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ বা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে হল খোলার আন্দোলন নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছি কিনা তা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।

উত্তরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা আলোচনা হয়নি, তবে এটা আলোচনা হয়েছে যে, বিশেষ করে যারা আবাসিক শিক্ষার্থী, তাদের সেইফটিটাই হল সবচেয়ে বড় বিষয়। তাদের জন্য সেইফটি মেজার্স নিয়ে কীভাবে স্কুল কলেজ খোলা যায়, সেটা দেখার জন্য বলা হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এই সপ্তাহে না হলে আমরা আগামী রবি-সোমবারের মধ্যে ইনশাআল্লাহ বসে যাব। বসে বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনের সবাইকে নিয়ে বসে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’

মহামারীর প্রকোপ কিছুটা কমে আসায় এবং এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করে গত ২৩ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) স্কুল-কলেজের অধ্যক্ষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার প্রস্তুতি নিতে বলেছিল।

গত ২৪ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সংসদে বলেছিলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর প্রাথমিকভাবে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস হবে। বাকিরা সপ্তাহে এক দিন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস করবে।

কিন্তু সর্বশেষ ২৪ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানানো হয়।

Share.

Leave A Reply