শহিদুলকে আগে ধরে নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত হবে: ডিবি

0

এনএনবি : যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানায় নেওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে, তাদের একজন শহিদুল ইসলামকে দুদিন আগেই ধরে নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

ওই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের নামে বার্তার খবর এলেও তা উড়িয়ে দিয়ে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন, এরা স্থানীয় সন্ত্রাসী, এর সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নেই।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ‘মলম পার্টি-অজ্ঞান পার্টি‘র তৎপরতা রোধে পদক্ষেপ নিয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও আব্দুল বাতেন রিজেন্ট চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে করা অস্ত্র মামলা এবং জেকেজির বিরুদ্ধে করা মামলার প্রসঙ্গ টানেন। এরপর পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।

বুধবার ভোরে শহিদুলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানায় নেওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে পাঁচজন আহত হন। শহিদুলদের কাছে পাওয়া ওজন মাপার যন্ত্রের মতো দেখতে একটি ডিভাইস থেকে ওই বিস্ফোরণ ঘটে বলে পুলিশের ভাষ্য।

শহিদুলের পরিবার ও এলাকাবাসী জানিয়েছে, সোমবার বিকালে মাইক্রোবাসে আসা একদল ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়েছিল, যাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিবি কর্মকর্তা বাতেন বলেন, “তাদের কাউকে আগে আটক করার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে তা তদন্ত করে দেখা হবে।”

ওই ঘটনায় অস্ত্র আইনে এবং বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। শহিদুল, রফিকুল ইসলাম ও মোশাররফ হোসেনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দাবি করেন বাতেন।

ঈদের আগে জঙ্গি আক্রমণ ঠেকাতে পুলিশের সতর্কতার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আইএসের নামে দায় স্বীকারের বার্তা এসেছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপে।

এ বিষয়ে ডিবি কর্মকর্তা বাতেন বলেন, “দাবি কেউ করতেই পারে। তবে কে কী দাবি করল, এটা আমাদের কোনো বিষয় নয়। তবে এই ঘটনার সাথে জঙ্গির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”

গ্রেপ্তার তিনজনই ‘স্থানীয় সন্ত্রাসী’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পেছনে এলাকার আধিপত্য বিস্তারের কোনো বিষয় রয়েছে বলে তাদের ধারণা।

শহিদুলসহ গ্রেপ্তার তিনজনকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান ও মলম পার্টির ৫৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাতেন বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি বেশ তৎপর হয়ে উঠে। বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু নিয়ে আসা বেপারীরা তাদের শিকার হয়।

“তার চেতনানাশক বড়ি, তরল ‘মুভ’ স্প্রে, বিশেষ ধরনের মলম- হালুয়া, গুল ব্যবহার করে বেপারীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়।”

সাহেদ-জেকেজি প্রসঙ্গ

সংবাদ সম্মেলনে ডিবি কর্মকর্তা আবদুল বাতেন জানান, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদের বিরুদ্ধে করা অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্র বৃহস্পতিবার আদালতে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালে কোভিড-১৯ পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় সাহেদ তাদের কাছে রিমান্ডে থাকার সময় ১৮ জুলাই রাতে তাকে নিয়ে অভিযান চালানো হয়। পরে তার দেখানো স্থানে উত্তরায় তার একটি গাড়ি থেকে এক রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল এবং কিছু মাদক পাওয়া যায়।

এই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় অস্ত্র আইনে যে মামলা করা মামলায়, সেই মামলার অভিযোগপত্রই বৃহস্পতিবার দেওয়া হয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী দুজন ১৬৪ ধারায় জবাববন্দি দিয়েছে বলে জানান বাতেন।

কোভিড-১৯ পরীক্ষা নিয়ে জেকেজির প্রতারণা মামলার অভিযোগপত্রও শিগগিরই দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বাতেন বলেন, “এই মামলার তদন্ত প্রায় শেষ। দুই-একদিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে।”

নমুনা সংগ্রহ না করে, ল্যাবরেটরিতে না পাঠিয়ে, শুধু ফরম ফিলাপ করে, ১ হাজার ৯২৫টি ভুয়া প্রতিবেদন জেকেজি দিয়েছিল বলে জানান তিনি।

বাতেন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নমুনা সংগ্রহের জন্য জেকেজিকে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়ম পাওয়া গেছে।

“চুক্তির অনিয়মের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগে ডিবির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেটা তারাই দেখবেন।”

Share.

Leave A Reply