মুমিনুলের চোখে সেরা সৌম্য, ভবিষ্যতে আফিফ

0

এফএনএস স্পোর্র্টস: মুমিনুল হক বেশ বিপাকেই পড়ে গেলেন। কারও সঙ্গে খেলেছেন অল্প সময়, তাকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত হবে? কাউকে দেখেছেন শুধুই ঘরোয়া ক্রিকেটে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাকে মেলানো ঠিক হবে? সেরা ফিল্ডার নিয়ে মুমিনুল ভাবলেন অনেক। উঠে এলো অনেকের নাম। শেষ পর্যন্ত তিনি সৌম্য সরকারকে বেছে নিলেন এখনও পর্যন্ত সেরা হিসেবে। তবে তার ভবিষ্যতের বাজি, আফিফ হোসেন। সেরা ব্যাটসম্যান-বোলার নিয়ে বিতর্ক যত হয়, বাংলাদেশে তার চেয়ে চর্চা অনেক কম হয় সেরা ফিল্ডার নিয়ে। ধারাবাহিক আয়োজনে   খুঁজে বেরার করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশের সবসময়ের সেরা ফিল্ডারকে। সেরার বিবেচনায় থাকছে আলাদা তিনটি ক্যাটাগরি এবং সবশেষে সার্বিকভাবে সেরা। আয়োজনের তৃতীয় পর্বে বাংলাদেশের সবশেষ টেস্টের অধিনায়ক মুমিনুল বললেন তার বিবেচনায় সেরাদের কথা।

স্লিপ:

“গ্রেট স্লিপ ফিল্ডার বলতে যা বোঝায়, তেমন আমরা কাউকে এখনও পর্যন্ত পাইনি। সেটির নানা কারণ আছে। এখন সেই আলোচনায় যাব না। যে কজন ভালো স্লিপ ফিল্ডার আমি দেখেছি, সবার আগে আমার মনে পড়ছে সৌম্য সরকারের নাম।” “সৌম্যর হাত খুব ভালো। রিফ্লেক্স ভালো। ক্যাচ ধরার হার যদি দেখেন, বাংলাদেশের হিসেবে অনেক বেশি। টেস্ট যদিও এখনও ততটা খেলেনি, তবে যতটুকু খেলেছে, খারাপ করেনি। একটা বড় ব্যাপার হলো, পেস-স্পিন দুটিতেই স্লিপে সৌম্য ভালো। আরও উন্নতির জায়গা অবশ্যই আছে। আমার বিশ্বাস, সামনে আরও ভালো করবে সে।” “স্লিপে ইদানীং লিটন দাসও ভালো করেছে। খুব বেশি এখনও করেনি। তবে সে খুব ভালো স্লিপ ফিল্ডার হতে পারে। এখন নাজমুল হোসেন শান্তও ভালো করছে।” “ঘরোয়া ক্রিকেটে কয়েকজনের কথা বলব আমি। ইয়াসির আলি চৌধুরি রাব্বি একজন। চট্টগ্রাম দলে একসঙ্গে খেলি, দেখেছি ওকে। খুব ভালো স্লিপ ফিল্ডার। ফরহাদ হোসেন (রাজশাহীর অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার) ভাইকে দেখেছি, জাতীয় লিগে স্লিপে খুব ভালো করেন। জুনায়েদ সিদ্দিক ভাইয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেভাবে খেলিনি। তবে দেখেছি যতটুকু, উনিও খুব ভালো।” “তবে ঘরোয়াতে ভালো আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালোর মধ্যে পার্থক্য আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চাপ অনেক বেশি থাকে। স্লিপে ফিল্ডিংয়ের জন্য নার্ভ একটা বড় ব্যাপার। কাজেই ঘরোয়া আর আন্তর্জাতিকের সেরা তাই মেলাব না। সব দিক থেকে ভাবলে, সৌম্যকেই স্লিপে আমার দেখা সেরা বলব।”

 

৩০ গজ বৃত্তে:

“বৃত্তের ভেতর নাসির হোসেন খুব ভালো ছিল। তবে কাঁধের ইনজুরির আগের নাসির। গতি, রিফ্লেক্স, ক্যাচিং, থ্রোয়িং, অ্যান্টিসিপেশন, সবকিছু ছিল তার। রুম্মানও (সাব্বির রহমান) ভালো বৃত্তের ভেতর। সরাসরি থ্রোয়ে স্টাম্পে লাগানোর কথা বললে, সাকিব ভাই দারুণ। তার মতো এত ধারাবাহিক আর কেউ স্টাম্পে হিট করতে পারে না।” “এখন আফিফ হোসেন দুর্দান্ত। তবে ওকে আরও দেখতে হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। কারণ যেটা আগে বলেছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চাপের কারণেই অনেক সময় অনেকে ভুল করে। ভালো ফিল্ডার সেই চাপকে হজম করে ফেলে। আপাতত, ইনজুরির আগের নাসির হোসেনকেই এগিয়ে রাখব এখানে।”

 

সীমানায়:

“এখানে খুব বেশি ভাবতে হবে না। তামিম ইকবাল ভাই সেরা। বিশেষ করে, তার ক্যাচিং দারুণ। বাউন্ডারিতে ক্যাচ নেওয়া অনেকের কাছে সহজ মনে হতে পারে। আসলে এটা কঠিন। টেকনিক্যাল দিক থেকে যতটা, তার চেয়ে বেশি স্নায়ুর চাপের দিক থেকে। একটা বল আকাশে যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ কিন্তু নার্ভের বড় পরীক্ষা। এসবের বাইরে গ্রাউন্ড কাভার করা, বলের কাছে যাওয়া, এসব তো আছেই।” “কিছু ক্যাচ তার হাত থেকে ফসকেছেও। তবে সেসব খেলারই অংশ। বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের সেরা ১০টি ক্যাচে ৫-৬টিই সম্ভবত তার। ক্যাচিংয়ে তাই তামিম ভাই সেরা। গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে হয়তো অন্য অনেকের মতো তিনি ততটা গতিময় নন, তবে নিরাপদ যথেষ্টই।” “সাকিব ভাই শুরুতে কিছুদিন বাউন্ডারিতে ফিল্ডিং করেছেন। তখন খুব ভালো ছিলেন। এখন ভেতরেই ফিল্ডিং করেন বেশি।”

 

সব মিলিয়ে সেরা:

সৌম্য সরকার ও আফিফ হোসেন। ইনজুরির আগের নাসিরকেও রাখা যায়। তবে যেহেতু সেটা ধরে রাখতে পারেনি, তাই ওই দুজনকেই এগিয়ে রাখব। সৌম্যর ক্ষেত্রে যেটা বড় ব্যাপার, সে দুর্দান্ত অলরাউন্ড ফিল্ডার। সব পজিশনে ভালো। সব পজিশনেই ওর ক্যাচিংয়ের হার ভালো। গ্রাউন্ড ফিল্ডিংও ভালো। স্টাম্পে হিট করে নিয়মিত। আত্মবিশ্বাসও আছে যথেষ্ট।” “আফিফের ক্ষেত্রে আমি আসলে সম্ভাবনাকেও বিবেচনায় নিয়েছি। ওর গতি অবিশ্বাস্য, চোখের পলকে বলের কাছে চলে যায়। ডাইভিং দুর্দান্ত। খুব ভালো অ্যাথলেট। তবে এখন তো বয়স কম, আরও পরে, ২৬-২৭ বছর বয়স হলে এবং আরও অনেক ম্যাচ খেললে ওকে আরও ভালোভাবে বিচার করা যাবে। চাপের মধ্যে কতটা ভালো, এটা বেশি ম্যাচ খেললে বোঝা যাবে। যদি ও এই ফিটনেস, পরিশ্রম ও আগ্রহ ধরে রাখতে পারে, তাহলে সত্যিকারের বিশ্বমানের ফিল্ডার হওয়ার সুযোগ আছে ওর।”01-

Share.

Leave A Reply