নদী দখল করে ভবন নির্মাণ ভাঙ্গুড়ায়

0

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : ভাঙ্গুড়ায় নদী দখল করে আরসিসি ভিত দিয়ে ভবন নির্মাণ করছেন হিরন আহমেদ নামের এক ব্যবসায়ী। ভাঙ্গুড়া পৌরশহরের শরৎনগর বাজারে বড়াল সেতুর পাশে ওই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবৈধভাবে এই ভবন নির্মাণ করা হলেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নীরব রয়েছেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, ভাঙ্গুড়া পৌরশহরের মেন্দা মহল্লার বাসিন্দা ও শরৎনগর বাজারের ব্যবসায়ী হিরন আহমেদ এবং লিটন আহমেদ সহ ১০/১২ জন  দীর্ঘদিন ধরে বড়াল সেতুর পাশে অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে বড়াল নদীর পাড় দখলে রাখেন। এরপর পর্যায়ক্রমে সুযোগ বুঝে পৌর ভূমি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের  ম্যানেজ করে লিটন আহমেদ সহ কয়েকজন আরসিসি ভিত দিয়ে ভবন নির্মাণ করেন। তবে  সকলেই প্রাথমিক পর্যায়ে ভবনের উপরে ঢেউটিন দিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেন। এ অবস্থায় গত এক সপ্তাহ ধরে হিরন আহমেদ আরসিসি দিয়ে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড়াল নদীর পাড় ঘেঁষে শরৎনগর বাজারের প্রধান সড়ক অবস্থিত। সড়কের সরকারি কলেজ মোড় থেকে বড়াল সেতুর উত্তর পর্যন্ত ১০০ মিটার বড়াল নদীর পাড় শরৎনগর বাজারের ব্যবসায়ী এলাকা হওয়ায় নদী দখল করে নিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন এসব দখলদাররা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে নদী দখল করে রেখেছিলেন। কিন্তু সুযোগ বুঝে এসব ব্যবসায়ীরা আরসিসি ভিত দিয়ে ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। অধিকাংশ দখলদাররা প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে আরসিসি ভিত দিয়ে ভবন নির্মাণ করলেও কংক্রিটের ছাদের পরিবর্তে ঢেউটিন ব্যবহার করেছেন। পরে দখলদাররা সুবিধামতো সময়ে ঢেউটিন সরিয়ে কংক্রিটের ছাদ নির্মাণ করবেন। দখলদার হিরন আহমেদ বলেন, বছরের পর বছর ধরে ব্যবসায়ীরা নদীর পাড় দখল করে রেখেছেন। পরে ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মৌখিক অনুমতি নিয়ে এসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। নদী দখল করে ভবন নির্মাণ অবৈধ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা ভবন নির্মাণ করতে দিচ্ছেন বলেই করছি। প্রশাসন মনে করলে যেকোনো সময় ভেঙে দিবেন। ভাঙ্গুড়া পৌরো ভূমি অফিসের সহকারি কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, নদী দখল করে ভবন নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। তাই এ ব্যাপারে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। দ্রুত ভবন নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, নদী দখল করে স্থায়ী ভবন নির্মাণের সুযোগ নেই। তাই এ বিষয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share.

Leave A Reply