দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের দেখা পেলো মাহমুদউল্লাহ একাদশ

0

এফএনএস স্পোর্টস: এমনিতেই দর্শক নেই, তার মধ্যে পারফরম্যান্সও হতাশাজনক। সবমিলিয়ে মঙ্গলবার তামিম-মাহমুদউল্লাহরা ম্যাড়ম্যাড়ে এক ম্যাচ ‘উপহার’ দিলেন। ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম ম্যাচ হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের দেখা পেয়েছে মাহমুদউল্লাহ একাদশ। বিসিবি প্রেসিডেন্ট’স কাপের লো স্কোরিং ম্যাচে শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও মুমিনুল হক ও নুরুল হাসানের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ৫ উইকেটে জিতেছে মাহমুদউল্লাহরা। ২৩.১ ওভারে মাত্র ১০৩ রানে তামিম একাদশ অলআউট হওয়ার পর মাহমুদউল্লাহ একাদশও পড়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে। স্কোরবোর্ডে কোনও রান যোগ হওয়ার আগেই নেই ৩ উইকেট! মোস্তাফিজুর রহমান ও সাইফউদ্দিনের গতির সামনে মুখ থুবড়ে পড়েন নাঈম শেখ, লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস। এরপরও ২৭ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে সহজ লক্ষ্য টপকে যায় তারা। চতুর্থ উইকেটে মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে মাহমুদউল্লাহ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ১০ রানে বাজে শটে তাইজুল ইসলামকে উইকেট দিয়ে আসেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। এরপর নুরুলকে সঙ্গে নিয়ে মুমিনুল দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরের দিকে। জয় থেকে একটু দূরে থাকতে মুমিনুল ৩৯ রানে আউট হন। ৬১ বলে ৬ চারে ইনিংসটি সাজিয়েছেন টেস্ট অধিনায়ক। দিনের সেরা ব্যাটসম্যান ও সেরা ফিল্ডারের পুরস্কার জেতা নুরুল করেছেন অপরাজিত ৪১ রান। ৩৮ বলের ইনিংসটিতে ছিল ৬ চার ও ১ ছক্কায় মার। তার সঙ্গে খেলা শেষ করেন সাব্বির রহমান (৪*)। তামিম একাদশের বোলারদের মধ্যে ৮ রানে ২ উইকেট নেন সাইফউদ্দিন। তাইজুল ২৭ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। মাহমুদউল্লাহ একাদশের হারানো অন্য উইকেটটি মোস্তাফিজের। এর আগে টস হেরে মাত্র ১০৩ রানে অলআউট হয়ে যায় তামিম একাদশ। তাদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার পথে বল হাতে বিধ্বংসী রূপে হাজির হয়েছিলেন দুই পেসার রুবেল হোসেন ও সুমন খান। ম্যাচসেরা রুবেল ১৬ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট, আর সুমন সমান উইকেট নিতে খরচ করেছেন ৩১ রান। ইনিংসের শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন সিনিয়র তামিম। রুবেলের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ৮ বলে ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। ফ্লাট উইকেটে এদিন দুর্দান্ত বোলিং করেছেন রুবেল। যুব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ভালো শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। লেগ স্টাম্পের বাইরে রুবেলের ডেলিভারি দ্বিধায় ভুগে মিডউইকেটে মুমিনুল হককে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ১৮ বলে ৩ চারে খেলেন ২৭ রানের ইনিংস। তামিম একাদশের এটাই সর্বোচ্চ ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে এনামুল হকের (২৫) ব্যাট থেকে। মাহমুদউল্লাহ একাদশের দুই পেসার রুবেল-সুমন ছাড়াও আলো ছড়িয়েছেন অন্য বোলাররা। মেহেদী হাসান মিরাজ ২ রানে ২টি ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ১৭ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

তামিম একাদশ: ২৩.১ ওভারে ১০৩ (তানজিদ তামিম ২৭, এনামুল ২৫, মেহেদী হাসান ১৯, সাইফউদ্দিন ১২, মোসাদ্দেক ৫, তামিম ২; রুবেল ৩/১৬, সুমন ৩/৩১, মিরাজ ২/২, আমিনুল ২/১৭)।

মাহমুদউল্লাহ একাদশ:  ২৭ ওভারে ১০৬/৫ (নুরুল ৪১*, মুমিনুল ৩৯, মাহমুদউল্লাহ ১০, সাব্বির ৪*; সাইফউদ্দিন ২/৮, তাইজুল ২/২৭, মোস্তাফিজ ১/১৪)

ফল: মাহমুদউল্লাহ একাদশ ৫ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: রুবেল হোসেন।

সেরা বোলার: সুমন খান।

সেরা ব্যাটসম্যান: নুরুল হাসান।

সেরা ফিল্ডার: নুরুল হাসান।

 

Share.

Leave A Reply