দশ বছরে সুন্দরবনে দূষণ বেড়েছে সাত গুণ

0

এনএনবি : সুন্দরবনে গত দশ বছরে দূষণ বেড়েছে প্রায় সাত গুণ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

এই বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, ‘২০১০ সালে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পশুর নদের প্রতি লিটার পানিতে তেলের পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম। আর এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ মিলিগ্রামে; যেখানে স্বাভাবিক মাত্রা হল ১০ মিলিগ্রাম।’

সুন্দরবনে দূষণ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিল্প কারখানা স্থাপন, যান্ত্রিক নৌযান চলাচল, বিষ দিয়ে মাছ শিকারসহ বিভিন্ন তৎপরতা বনের গাছপালা, বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রাণীর ওপর প্রভাব পড়ছে বলে তারা মনে করেন।

অধ্যাপক হারুন বলেন, ‘সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা নদ-নদীর পানি ও মাটিতে দূষণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় আগের মত আর গাছের চারা গজাচ্ছে না। তাছাড়া পানিতে তেলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলজ প্রাণী। যেসব রুটে নৌযান চলাচল করে ওই রুটগুলোর বনের পাশে এখন আর তেমন হরিণ, বানরসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী দেখা যায় না।’

বনবিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়হীনতায় সুন্দরবনে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করেন সুন্দরবন অ্যাকাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আগলে রেখেছে সুন্দরবন। সুন্দরবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে এখানকার পরিবেশ-প্রতিবেশ ব্যবস্থা।

দূষণের কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে বলে মনে করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণের অর্থনৈতিক-সামাজিক অবস্থাও সুন্দরবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ অঞ্চলের মানুষের জীবনপ্রবাহের সঙ্গে সুন্দরবন আবর্তিত আবহমানকাল থেকে। সুন্দরবনকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

দূষণের কারণে বনের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনার সমন্বয়কারী এম বাবুল হাওলাদারও।

তিনি বলেন, ‘বনের কিছু এলাকায় শিল্প কারখানা ও বনের মধ্য দিয়ে জলযান চলার কারণে সুন্দরবনে দূষণ বেড়েছে।’

সুন্দরবন সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি জন্য ‘সুন্দরবন দিবস’ পালনের দাবি জানিয়েছেন সুন্দরবন অ্যাকাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির।

তিনি বলেন, ‘বনবিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়হীনতায় সুন্দরবনে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে। বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে বন বিভাগের উদ্যোগ পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন সুন্দরবন সংশ্নিষ্টরা।’

Share.

Leave A Reply