চীনকে ‘একঘরে’ করতে ভারতকে কাছে টানার সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রে

0

এফএনএস বিদেশ: করোনাভাইরাস নিয়ে তথ্যগোপন, প্রতারণা ও অসহযোগিতার অভিযোগে চীন থেকে বড় বড় শিল্প-কারখানাগুলো সরিয়ে নেয়ার দাবি উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে। পাশাপাশি, চীনের অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রভাব কমাতে ভারত, ভিয়েতনাম, তাইওয়ানের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার এবং জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অস্ত্র বিক্রির সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি করোনা মহামারির জন্য চীনকে দায়ী করতে ১৮টি পয়েন্টসহ বিশদ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন মার্কিন সিনেটর থম তিলিস। তিনি বলেন, ‘চীন ইচ্ছাকৃতভাবে করোনার বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল, যার কারণে বৈশ্বিক মহামারি তৈরি হয়েছে।’ তিলিসের মতে, আঞ্চলিকভাবে চীনকে একঘরে করতে বেইজিংয়ের ওপর চাপ বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে চীনের পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়া-প্রীতির কথা মাথায় রেখে ভারত, ভিয়েতনাম, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোকে কাছে টানার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা প্রকাশের সময় এ মার্কিন সিনেটর বলেন, ‘এটা যুক্তরাষ্ট্র ও বাকি বিশ্বের জাগ্রত হওয়ার সময়। করোনা নিয়ে মিথ্যাচারের জন্য চীন সরকারকে দায়ী করবে আমার পরিকল্পনা। চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পাশাপাশি আমেরিকার অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য ও জাতীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এটি।’ সিনেটর তিলিসের পরিকল্পনায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য নতুন কর্মসূচি প্রণয়নের পাশাপাশি মার্কিন সেনাবাহিনীকে দ্রুত ২০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার আবেদনে সম্মতি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে আঞ্চলিক বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে, জাপানের সামরিক বাহিনী নতুন করে গড়ে তোলায় উৎসাহপ্রদান এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে সমরাস্ত্র বিক্রির পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ রিপাবলিকান নেতার দাবি, ‘চীন থেকে শিল্প-কারখানাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হোক এবং ধাপে ধাপে জোগানের জন্য চীনের উপর নির্ভরশীলতা কমানো হোক। চীনকে মার্কিন প্রযুক্তি চুরি করা থেকে আটকানো হোক এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহারেরর জন্য মার্কিন সংস্থাগুলোকে প্রণোদনা দেয়া হোক। চীনা হ্যাকার এবং নাশকতা রুখতে সাইবার সুরক্ষা জোরদার করা হোক।’ এছাড়া, ২০২২ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য শীতকালীন অলিম্পিক অন্যত্র সরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কাছে ট্রাম্প প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানোরও দাবি জানিয়েছেন সিনেটর থম তিলিস।

Share.

Leave A Reply