গেইল-রাহুল জুটির কাছে কোহলিদের হার

0

এফএনএস স্পোর্টস: এই আইপিএলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই জয় পেয়েছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। অধিনায়ক কেএল রাহুলের সেঞ্চুরির কল্যাণে হারিয়ে দিয়েছিল বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে। তারপর হারতে হারতে একেবারে তলানিতে নেমে যখন প্লে-অফের সম্ভাবনা কঠিন হয়ে পড়েছে, তখনই আবার জিতলো তারা। জিতলো সেই কোহলির দলের বিপক্ষে, ৮ উইকেটে। ক্রিস গেইল শুধু যে সৌভাগ্য নিয়ে দলে ঢুকেছেন তা নয়, রাহুলের ম্যাচজয়ী ইনিংসের পাশে দলের দ্বিতীয় ফিফটি ইনিংসটিও ‘ইউনিভার্স বসে’র। ক্রিস গেইল এতদিন বেঞ্চে বসে দলের হার দেখছিলেন। বৃহস্পতিবার শারজার এ ম্যাচেই তাকে প্রথম খেলতে নামায় পাঞ্জাব। প্রথম ম্যাচেই ফিফটি করে বুঝিয়ে দিলেন তাকে আরও আগেই খেলার সুযোগ দিলে হয়তো টানা পাঁচ ম্যাচে হারতে হতো না। ওপেনিংয়ে নয়, গেইল নেমেছেন তিনে। ৪৫ বলে ৫৩ রান করে রান আউট হয়েছেন, তার আগে একটি চারের সঙ্গে মেরেছেন ৫টি ছক্কা। রান আউট হয়েছেন ম্যাচের দ্বিতীয় শেষ বলে। দুই দলের রান তখন সমান ১৭১। জয়ের জন্য শেষ বল থেকে নিতে হতো ১ রান। বাঁহাতি নিকোলাস পূরাণ নেমেই লেগস্পিনার যুজবেন্দ্র চাহালকে মেরে দিয়েছেন ছক্কা। অন্য প্রান্তে ৬১ রানে অপরাজিত থাকা অধিনায়ক রাহুলই ম্যান অব দ্য ম্যাচ।  ৪৯ বলের ইনিংসে তিনিও মেরেছেন ৫ ছক্কা, সঙ্গে একটি চার। আট ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ের সুবাদে ৪ পয়েন্ট, আট দলের মধ্যে সবার নিচে। তবু রাহুলের গর্ব ব্যাঙ্গালোর ও ভারত অধিনায়ক কোহলিকে দু’বারই হারিয়েছেন, যাতে তার ব্যাটেরই সবচেয়ে বড় অবদান। পাঞ্জাব দল হিসেবেই জিতেছে। প্রথমে ভালো বোলিং করে ব্যাঙ্গালোরকে আটকেছে ১৭১ রানে। রান তাড়ায় দুর্দান্ত করেছে শুরু থেকেই। ওপেনার মায়াঙ্ক আগরওয়ালের ব্যাটই চওড়া ছিল বেশি। চাহালের লেগস্পিনে আগরওয়াল বোল্ড হতে ভাঙে ৮ ওভারে ৭৮ রানের জুটি। ২৫ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৫ করে যান আগরওয়াল। তারপর একটু দেখেশুনে খেলতে গিয়ে রান রেটের চাপটা যদিও বেড়েছিল, তবু মনে হয়নি এ ম্যাচেও পাঞ্জাবের নৌকাডুবি হতে পারে। পাঞ্জাব সাহায্য পেয়েছে কোহলিদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকেও। এবি ডি ভিলিয়ার্সকে পাঠানো হয়েছে পাঁচ নম্বরে। আগের ম্যাচেই ৩৩ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলা ডি ভিলিয়ার্স আউট হয়েছেন ৫ বলে ২ রান করে। ১৮তম ওভারে ডি ভিলিয়ার্স ও কোহলির উইকেট নিয়ে ব্যাঙ্গালোরকে ১৩৬/৬ বানিয়ে দেন মোহাম্মদ শামি। দলের পক্ষে কোহলিরই সবচেয়ে বেশি রান, ৩ চারের সাহায্যে ৩৯ বলে ৪৮। শামির করা শেষ ওভারে ক্রিস মরিস ও ইসুরু উদানা ২৪ রান নিয়েছিলেন বলেই ১৭১ রানে গেছে ব্যাঙ্গালোর। দুই ছক্কা ও একটি চারসহ ওই ওভারে মরিস নেন ১৭ রান, উদানা এক ছক্কাসহ ৭ রান। ৮ বলে ২৫ করে অপরাজিত থাকেন মরিস, ৫ বলে ১০ করে উদানা। দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ (২০) ও দেবদূত পাড়িক্কাল(১৮) শুরুটা খারাপ করেননি। ওদিকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে দিয়ে বোলিংয়ের শুরুটা করিয়ে খারাপ করেনি পাঞ্জাব। কোনও উইকেট না পেলেও চার ওভারে অস্ট্রেলিয়ান অফস্পিনার দিয়েছেন ২৮ রান। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের অফস্পিন সামলাতেই সবচেয়ে বেগ পেতে হয়েছে কোহলিদের। চার ওভারে ২৩ রান দিয়ে অশ্বিন আউট করেছেন ফিঞ্চ ও ওয়াশিংটন সুন্দরকে। হারলেও আট ম্যাচ থেকে পাঁচ জয়ে তৃতীয় স্থানে ব্যাঙ্গালোর, প্লে-অফের দৌড়ে ভালোভাবেই আছে তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ব্যাঙ্গালোর: ২০ ওভারে ১৭১/৬ (কোহলি ৪৮, মরিস ২৫*, দুবে ২৩, ফিঞ্চ ২০, পাড়িক্কাল ১৮, অশ্বিন ২/২৩, শামি ২/৪৫) ও পাঞ্জাব: ২০ ওভারে ১৭৭/২ (রাহুল ৬১*, গেইল ৫৩, আগরওয়াল ৪৫, চাহাল ১/৩৫, মরিস ০/২২)

Share.

Leave A Reply