গারো পাহাড়ে তরমুুুজ চাষে চমক

0

এনএনবি : শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে তরমুজ চাষ করে তাক লাগিয়েছেন এক কৃষক। আব্দুল বাতেন নামের এই কৃষক তার মাল্টা বাগানের পাশে এক একর জমিতে এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ২ হাজার বীজ রোপণের মাধ্যমে শুরু করেছেন তরমুজ চাষ। গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে তরমুজের চারা লাগিয়ে সাফল্য অর্জন করায় তিনি এবার বাণিজ্যিকভাবে চাষের চিন্তা করেন।

তরমুজ হচ্ছে চরাঞ্চলের ফল বা ফসল। এটা চরাঞ্চরের মাটির প্রকৃতি ও আবহাওয়া বেশ উপযোগী। কিন্তু পাহাড়ি মাটিতে এর ফলন সম্ভব নয় বলে অনেকেই ধারনা করলেও আব্দুল বাতেন দেখিয়ে দিয়েছেন আবহাওয়া ও মাটি চরাঞ্চলের মতো না হলেও কিছুটা মিল থাকায় এখানে তরমুজ চাষ করা সম্ভব। শেরপুর সীমান্তের গারো পাহাড়ি এলাকায় বেশির ভাগ স্থানে পানি শুন্যতার কারণে ধান চাষ হয় না বললেই চলে। যেসব স্থানে চাষ হয় সেখানে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। ফলে পানির খরচ দিয়ে ধান চাষে লাভ নেই। এছাড়া কিছু স্থানে বিভিন্ন সবজির চাষ হলেও খরচে পোষায় না। তাই আব্দুল বাতেন এ এলাকার মানুষকে লাভজনক ও কম খরচে তরমুজ চাষে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ শুরু করেছেন।

শেরপুর জেলা জজ আদালতের কর্মচারি আব্দুল বাতেন তার বাড়ি ঝিনাইগাতি উপজেলার হলদি গ্রামের পাহাড়ি জমিতে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রায় ২ হাজার তরমুজের বীজ রোপণ করেন। বর্তমানে তরমুজের ফলন চোখে পড়ার মতো। আগামি মাসে এ তরমুজ বিক্রির জন্য উত্তোলন করা হবে বলে জানালেন আব্দুল বাতেন।

তিনি বলেন, আমাদের এলাকার পাহাড়ি মাটি বেলে-দোয়াশ প্রকৃতির হওয়ায় আমি গত বছর ১৫টি ট্রপিক্যাল ড্রাগন প্রজাতির তরমুজের চারা রোপণ করে সাফল্য পাওয়ায় এবার বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছি। আমার পরীক্ষামূলক তরমুজ পরিপক্ক হওয়ার পর ভেতরের রঙ ছিলো টকটকে লাল এবং রস ছিলো বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। প্রতিটি তরমুজের ওজন ১৫ থেকে ১৮ কেজি পর্যন্ত হয়েছিলো। এবার আমার ২ হাজার গাছের পেছনে খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। আশা করছি এ তরমুজ গাছ থেকে আয় হবে প্রায় ১০ লাখ টাকা। তরমুজের চারা বড় হয়ে ফলন আসা পর্যন্ত সামন্য পানি দেয়া হয়েছে। পাহাড়ি মাটির তলায় পানি না থাকলেও মাটির উপরি ভাগে পানির স্তর থাকায় পানি নিয়ে চিন্তা করতে হয়নি। তবে ফলন আসার সময় পানি ও পরিচর্যা করতে হয়েছে। এপ্রিল মাসেই এ তরমুজ উত্তোলন করে বিক্রি করা হবে। এছাড়া তিনি তার মাল্টা বাগানের ভিতরে সাথী ফসল হিসেবেও এবার বেশ কিছু তরমুজ গাছ রোপণ করেছেন।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আব্দুল বাতেন এবার তার মিশ্র ফল বাগানের সাথে এক একর জমিতে চরাঞ্চলের ফসল তরমুজ আবাদ করে সাফল্য অর্জন করেছেন। আমরা তাকে নানাভাবে পরামর্শ এবং সহযোগিতা দিয়ে আসছি। যাতে অনাবাদি এ পাহাড়ি জনপদে তরমুজ চাষ করে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে পারে।

Share.

Leave A Reply