করোনা ঠেলেই নির্বাচনী জনসভা করছেন ট্রাম্প

0

এফএনএস বিদেশ : করোনা মহামারির থাবায় দেশ বিপর্যস্ত হলেও ওকলাহোমার তুলসা শহরে নির্বাচনী জনসভা করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার তার এই জনসভা হবে। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাকে ওই জনসভার অনুমতি দিয়েছেন। তুলসা শহরে জনসমাগম ঘটলে করোনার সংক্রমণ আরও বেড়ে যেতে পারে আশংকায় সেখানকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ট্রাম্পের জনসভার বিরোধী ছিলেন। জনসভা বন্ধের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিল একটি এনজিও। তবে শেষপর্যন্ত সবকিছু ট্রাম্পের পক্ষেই গেল। এরইমধ্যে তার জনসভাস্থলে বিক্ষোভ করলে, কঠোর ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। খবর বিবিসি ও সিএনএনের। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২২ লাখ। দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ২১ হাজার ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নির্বাচনী জনসভা আয়োজনে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। চলতি সপ্তাহে জনসভা বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল জন হোফ ফ্রাঙ্কলিন ফর রিকনসিলেশন নামের একটি অলাভজনক সংস্থা। তাদের দাবি, করোনা প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে জনসমাগম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়াতে পারে। তাই জনসভায় যোগদানকারীদের হয় সামাজিক দূরত্ব মানতে বাধ্য করা উচিৎ, নতুবা র‌্যালি বাতিল করা প্রয়োজন। শুক্রবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট রায়ে বলেছে, লকডাউন প্রত্যাহার করায় ওকলাহোমায় ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকা- শুরু হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব মানার সিদ্ধান্ত স্বতন্ত্রভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের। তাই ট্রাম্পের র‌্যালি হতে পারে।  আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। করোনায় লকডাউনে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দেশজুড়ে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, এরইমধ্যে জরিপে আসছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটদের প্রার্থী জো বাইডেন তার চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয়। এমন খবরে করোনা কিংবা কোনো কিছুকে তোয়াক্কা না করেই ট্রাম্প নির্বাচনী জনসভা করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির জানিয়েছে, তুলসার জনসভায় অংশ নেওয়ার জন্য ১০ লাখ টিকেটের চাহিদা রয়েছে। তবে ভেন্যু ব্যাংক অব ওকলাহোমা সেন্টারে মাত্র ১৯ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারবেন।  তাতে যোগদানকারীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়ে ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির জানিয়েছে, তারা অংশগ্রহণকারীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করবেন এবং স্যানিটাইজার ও মাস্ক সরবরাহ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রে যখন বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন চলছে, তখন এমন এক স্থানে ট্রাম্প নির্বাচনী জনসভা করছেন যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভয়াবহতম বর্ণবাদী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। ১৯২১ সালে শ্বেতাঙ্গরা তুলসায় স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর হামলা ও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলেছিল। বুধবার হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘একটি সুন্দর, সম্পূর্ণ নতুন ভেন্যু। আমরা এর জন্য অপেক্ষা করছি।’ শুক্রবার সকালে ট্রাম্প একাধিক টুইটে তার জনসভার বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভ করবে তাদেরকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘যে কোনো বিক্ষোভকারী, নৈরাজ্যবাদী, আন্দোলনকারী, লুটেরা বা নিম্নস্তরের লোক ওকলাহোমাতে যাবেন, তারা বোঝার চেষ্টা করুন নিউ ইয়র্ক, সিয়াটল বা মিনিয়াপোলিসে যা হয়েছে আপনাদের সঙ্গে তেমন আচরণ করা হবে না। এটা হবে একেবারেই ভিন্ন দৃশ্য!’

 

 

Share.

Leave A Reply