করোনাভাইরাসে এক দিনে ২১ জনের মৃত্যু

0

এনএনবি : দেশে করোনাভাইরাসে এক দিনে আরও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা গত ৪৬ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম।

কোরবানীর ঈদের দিন গত ১ আগস্ট দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এরপর গত দেড় মাসে প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২১ জনের বেশি। এর চেয়েও কম মৃত্যুর খবর সর্বশেষ এসেছিল রোজার ঈদের তিন দিন পর ২৮ মে; সেদিন মারা গিয়েছিলেন ১৫ জন।

গতকাল বুধবার বিকালে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে মারা যাওয়া ২১ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট ৪ হাজার ৮২৩ জনের মৃত্যু হল।

আর সকাল ৮টা পর্যন্ত আরও ১ হাজার ৬১৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৭১ জন হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ৩৭৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৯ জন হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, ২৬ অগাস্ট তা তিন লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৭ সেপ্টেম্বর সেই সংখ্যা সাড়ে চার হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

বিশ্বে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ২ কোটি ৯৫ লাখ ছাড়িয়েছে; মৃতের সংখ্যা ৯ লাখ ৩৫ হাজার পেরিয়ে গেছে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে সনাক্তের দিক থেকে ১৫তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ২৮তম অবস্থানে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৯৪টি ল্যাবে ১৩ হাজার ৩৬০ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১৭ লাখ ৭০ হাজার ১০৬ টি নমুনা।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২ দশমিক ০৯ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭২ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪১ শতাংশ।

গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ১৬ জন, নারী ৫ জন। তাদের ২০ জন হাসপাতালে ও বাড়িতে ১ জন মারা গেছেন।

তাদের মধ্যে ১০ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। ৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।

১০ জন ঢাকা বিভাগের, ৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ১ জন করে মোট ২ জন রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের এবং ৪ জন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৪ হাজার ৮২৩ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৭৬০ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ৬৩ জন নারী।

তাদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ১ হাজার ৩১৩ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৬২৫ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২৮৬ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১১০ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৪১ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ২১ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

এর মধ্যে ২ হাজার ৩৪৯ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ১৩ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩২৪ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪১০ জন খুলনা বিভাগের, ১৮০ জন বরিশাল বিভাগের, ২১৭ জন সিলেট বিভাগের, ২২৮ জন রংপুর বিভাগের এবং ১০২ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

Share.

Leave A Reply