ইনজুরির আগের নাসির তামিমের পছন্দ

0

এফএনএস স্পোর্টস: জুনায়েদ সিদ্দিক থেকে আফতাব আহমেদ, কিংবা এই সময়ের সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত, বিভিন্ন পজিশনের বিবেচনায় উঠে এলো অনেকের নামই। কিন্তু অলরাউন্ড ফিল্ডার হিসেবে তামিম ইকবাল সবচেয়ে এগিয়ে রাখলেন নাসির হোসেনকে। একটু সংযুক্তি অবশ্য আছে, তামিমের চোখে সেরা, কাঁধের চোট পাওয়ার আগের নাসির। বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে ফিল্ডিং গুরুত্ব পেয়েছে সামান্যই। সেরা ব্যাটসম্যান ও বোলার নিয়ে বিতর্ক-আলোচনা যত হয়, সেরা ফিল্ডার নিয়ে চর্চা হয় তুলনায় অনেক কম। ধারাবাহিক আয়োজনে   খুঁজে বের করছে বাংলাদেশের সবসময়ের সেরা ফিল্ডারকে। সেরার বিবেচনায় থাকছে আলাদা তিনটি ক্যাটাগরি ও শেষে সার্বিকভাবে সেরা। দেশের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের অনেকে শোনাবেন নিজেদের পছন্দ। এই পর্বে বাংলাদেশের সফলতম ব্যাটসম্যান ও ওয়ানডে অধিনায়ক শোনাচ্ছেন তার চোখে সেরা ফিল্ডারদের কথা।

 

স্লিপ:

“জুনায়েদ সিদ্দিক। ব্যস, কেবল একজনের কথাই বলব। বিন্দুমাত্র সংশয় ছাড়াই আমার দেখা সেরা তিনি। আমার ধারণা, আরও অনেকেই বলবেন ওঁর কথা। সুমন ভাইও (হাবিবুল বাশার) ভালো ছিলেন, তবে স্লিপে জুনায়েদের মতো ভালো হাত বাংলাদেশের আর কারও দেখিনি।”

“স্লিপ ফিল্ডিংয়ের ব্যাপারটি অনেক সময়ই অনেকটা সহজাত। জুনায়েদ সিদ্দিকের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি সেরকমই ছিল। সার্বিকভাবে হয়তো তাকে সেরা ফিল্ডারদের মধ্যে রাখবেন না অনেকে। কিন্তু স্লিপে তিনি অনেকটা এগিয়ে থেকেই আমার দেখা সেরা।”

 

৩০ গজ বৃত্তের ভেতর:

“এখানে একজনকে বেছে নেওয়া কঠিন। ভালো অনেককেই দেখেছি আমি। আফতাব ভাই (আফতাব আহমেদ) খুব ভালো ছিলেন। দ্রুত বলের কাছে যেতে পারতেন, হাত ভালো ছিল। সরাসরি থ্রোয়ে স্টাম্পে বল লাগাতে পারতেন বেশ। যদিও অভিযোগ ছিল যে একটু আলসেমি ছিল তার, ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে চাইতেন না ততটা, তারপরও ফিল্ডিংয়ে দারুণ ছিলেন।”

“বৃত্তের ভেতর সরাসরি থ্রোয়ে স্টাম্পে লাগানোর দিক থেকে সাকিব সবচেয়ে এগিয়ে। এত ভালো অ্যাকুরেসি বাংলাদেশে আর কারও দেখিনি। গ্রাউন্ড ফিল্ডিং ও ক্যাচিংয়েও সাকিব সবসময় নিরাপদ।”

“বৃত্তের ভেতর ভালো আরও কয়েকজন ছিলেন। তবে আমার চোখে সেরা নাসির হোসেন। খুব গতিময় ছিল সে, যথারীতি হাত খুব ভালো। হাতে জোর ছিল অনেক, রকেট আর্ম যাকে বলে। অ্যাকুরেসিও ভালো। দারুণ কিছু ক্যাচ সে নিয়েছে।”

“তবে আমি বলছি, ইনজুরির আগের নাসিরের কথা। কাঁধের ইনজুরি। ইনজুরির পর স্বাভাবিকভাবেই ফিল্ডিং আগের মতো থাকেনি।”

 

সীমানায়:

“বাউন্ডারিতে বেশ ভালো কিছু ফিল্ডার বাংলাদেশ পেয়েছে। এখনকার দলেই খুব ভালো কিছু ফিল্ডার আছে। সৌম্য সরকার খুব ভালো, বল আকাশে উঠলে নিশ্চিন্ত থাকা যায় যে তার হাতে জমবেই। লিটন দাস উইকেটকিপার হলেও খুব ভালো ফিল্ডার।”

“আমার দেখা বাংলাদেশের সবচেয়ে কুইক ফিল্ডার আফিফ হোসেন। অনেকটা এগিয়ে থেকেই সে সবচেয়ে গতিময়। তবে বাউন্ডারিতে ফিল্ডিংয়ের সব গুণ মিলিয়ে সেরা শান্ত (নাজমুল হোসেন শান্ত)। শুধু ক্যাচিংয়ের কথা বললে, শান্তর চেয়ে এগিয়ে সৌম্য। কিন্তু গতি, অ্যান্টিসিপেশন, গ্রাউন্ড কাভার করা, ডাইভিং ও অন্য সব কিছু মিলিয়ে সেরা শান্ত।”

“বাউন্ডারিতে আমারও ভালো কিছু ক্যাচ আছে। কিছু ক্যাচ ছেড়েছিও। তারপরও নিজেকে নিয়ে বলতে পারি, ক্যাচ নেওয়ার ক্ষেত্রে মোটামুটি নিরাপদ। তবে যদি গতির কথা বলেন বা অন্যান্য কিছু, সেক্ষেত্রে আসলে সেরার তালিকায় আমি থাকব না।”

 

সব মিলিয়ে সেরা:

“এটা বেছে নেওয়া আমার জন্য খুব সহজ। কারণ, আমার কোনো সংশয়ই নেই যে সেরা অলরাউন্ড ফিল্ডার নাসির। আবারও বলছি, ইনজুরির আগের নাসির। একজন আদর্শ ফিল্ডারের সবকিছুই ছিল ওর। ক্যাচিং, গ্রাউন্ড ফিল্ডিং, ডাইভিং, রিফ্লেক্স, অ্যান্টিসিপেশন, গতি, সবকিছুই ছিল ওই সময়ের নাসিরের। মাঠের সব জায়গায় ফিল্ডিং করতে পারত এবং করেছেও।”

“নাসিরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্পেশালিটি ছিল, ফিল্ডিং দারুণ উপভোগ করত। সবসময় চাইত, বল যেন ওর কাছে যায়। সব সেরা ফিল্ডারদের এই ব্যাপারটি থাকে। আরেকটা ব্যাপার, মাঠে খুব চটপটে ও চনমনে থাকত। খুব প্রাণবন্ত থাকত। অনেক কথা বলত, সবাইকে উজ্জীবিত করত। এসবও কিন্তু ভালো ফিল্ডারের গুণ। সবকিছু মিলিয়ে আমার মতে সেরা নাসির।”01-

Share.

Leave A Reply