আরও ৩৪৮৯ জন করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু ৪৬ জনের

0

এফএনএস: দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড) সংক্রমণ এবং এতে মৃত্যু ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ হাজার ৪৮৯ জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে এ ভাইরাস। ফলে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭২ হাজার ১৩৪ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৪৬ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২ হাজার ১৯৭ জনে। গতকাল বুধবার দুপুরে করোনাভাইরাস বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ হাজার ৮৮৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৫ হাজার ৬৭২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো আট লাখ ৮৯ হাজার ১৫২টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৪৮৯ জনের মধ্যে। ফলে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৭২ হাজার ১৩৪ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৪৪ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ১৯৭ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৭৩৬ জন। এতে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮০ হাজার ৮৩৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৪৬ জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৮ জন এবং নারী ৮ জন। বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ। সবমিলিয়ে, নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৭ দশমিক ৯৬ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ২৮ শতাংশ। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, রাজধানীতে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ছয় হাজার ৩০৫টি। ভর্তি রয়েছেন দুই হাজার ২১৩ এবং শয্যা খালি আছে চার হাজার ৯৩টি। আর রাজধানীর করোনা ডেডিকেটেড সব হাসপাতাল মিলে আইসিইউ সংখ্যা ১৪২টি। ভর্তি রয়েছে ১০২ এবং খালি আছে ৪০টি শয্যা। অপরদিকে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যার সংখ্যা ৬৫৭টি। ভর্তি আছে ৩১৪ জন এবং খালি শয্যা সংখ্যা ৩৪৩টি। চট্টগ্রামে করোনা ডেডিকেটেড সব হাসপাতাল মিলে আইসিইউ সংখ্যা ৩৯টি। ভর্তি আছে ২০ এবং খালি আছে ১৯টি শয্যা। তিনি আরও জানান, সারাদেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে সাধারণ শয্যার সংখ্যা ১৪ হাজার ৯৪৫টি, আইসিইউ ৩৯৪টি, অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১১ হাজার ৭৬৪টি, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার সংখ্যা ১৩৪ এবং অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরের সংখ্যা ৯৮টি। সারাদেশে সাধারণ শয্যায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা চার হাজার ১৭৬ জন, আইসিইউতে ভর্তি ১৯৪ এবং সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৪৫ জন। ছাড়প্রাপ্ত নিয়েছেন ৬৩৯ জন। হাসপাতালে তথ্যের জন্য ফোন নম্বরগুলো হলো – ০১৩১৩৭৯১১৩০, ০১৩১৩৭৯১১৩৮-০১৩১৩৭৯১১৪০ পর্যন্ত। এদিকে করোনা শনাক্তে সরকারি সহায়তায় আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর’বি) একটি পিসিআর পরীক্ষাগার প্রথম থেকেই পরিচালনা করছে। তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আরও একটি পিসিআর পরীক্ষাগার চালু করেছে। সেটি হলো আইসিডিডিআরবি মনিকুলার ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি। এ নিয়ে বর্তমানে করোনা শনাক্তে পরীক্ষাগারের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৫টিতে। করোনাভাইরাসের ছোবলে গোটা বিশ্ব এখন মৃত্যুপুরী। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানোর পর বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন প্রায় এক কোটি ২০ লাখ। মৃতের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে সাড়ে ৬৯ লাখের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

 

Share.

Leave A Reply