আজ থেকে সব সিটিতে গণপরিবহন চলবে

0

এনএনবি : করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ন্ত্রণে লকডাউনের মধ্যেই ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা গণপরিবহন সেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আজ বুধবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে নিজের সরকারি বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বুধবার সকাল ৬টা থেকে এটা শুরু হবে। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সকল সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন সেবা চালু থাকবে। তবে শহরের বাইরের কোনো পরিবহন শহরে প্রবেশ করতে পারবে না, এবং বের হতে পারবে না।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সামাল দিতে সোমবার থেকে যে ‘লকডাউন’ শুরু হয়েছে। কিন্তু গত দুই দিনে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ দেখে তা বোঝার উপায় নেই।

এক বছর আগে করোনাভাইরাস মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়েছিল যে অস্থিরতা নিয়ে তার খুব একটা লক্ষণ মানুষের মধ্যে দেখা যায়নি এবার দ্বিতীয় দফা ‘লকডাউনের’ প্রথম দিনে।

অনেকটা ঢিলেঢালাভাবেই কেটে গেছে সোমবার লকডাউন শুরুর দিন। তবে গণপরিবহন না থাকায় কর্মজীবী মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

সারাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার।

সরকারি নির্দেশনা মেনে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশা ও রিকশা চলেছে অন্যান্য দিনের মতই। পাড়া-মহলার দোকানপাটও খুলেছে। কাঁচাবাজারে মানুষের ভিড়ও দেখা গেছে।

সীমিত পরিসরে সরকারি অফিস-আদালতের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় গণপরিবহনের অভাবে বাধ্য হয়েই মানুষকে পায়ে হেঁটে কিংবা রিকশায় কর্মস্থলে যেতে হয়েছে।

এদিন সচল শিল্প-কারখানায় কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের কর্মস্থলে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানতে হলেও নি¤œ আয়ের এসব মানুষকে পথের ভোগান্তিতে গলদঘর্ম হতে হয়েছে।

‘লকডাউনের’ দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীতে ‘ঢিলেঢালা ভাব’ লক্ষ করা গেছে। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় যথারীতি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে কর্মজীবী মানুষকে।

মঙ্গলবার সকালে রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল ঘুরে সড়কে আগের দিনের চেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল চোখে পড়েছে। কোনো কোনো সড়কে ট্রাফিক সিগন্যালে দেখা গেছে যানবাহনের লম্বা লাইন।

কাকরাইলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শামীম আহমেদ বলেন, ‘গতকালও মালিবাগ থেকে হেঁটে কাকরাইলের অফিসে এসেছি। আজকে এই অবস্থা। মনে হয়েছে, গতকালের তুলনায় রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। রিকশা তো দেদারসে চলছে।’

মৌচাক, মগবাজার, এলিফ্যান্ট রোডের শপিং-মলগুলো বন্ধ থাকলেও অলি-গলির দোকান-পাট খোলা রয়েছে।

শান্তিনগর বাজার, মালিবাগ বাজার, রামপুরায় কাঁচাবাজার খোলা আছে। তবে তেমন একটা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। বাজারের আশ-পাশে খোলা রয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো।

সড়কে যানবাহন থাকলেও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অফিসমুখী মানুষজনকে দুর্ভোগ পোহাতেই হচ্ছে।

মতিঝিলে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হামিদা খানম বলেন, ‘একদিকে গণপরিবহন বন্ধ আবার সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা। যানবাহন নেই বলে আমাদের কষ্টের সীমা নেই। রিকশায় অফিসে আসা-যাওয়া করতে বেশি ভাড়া এখন গুণতে হচ্ছে। রামপুরায় থাকি, এতো দূর থেকে তো আর পায়ে হেঁটে আসা যায় না। সেজন্য আমাকে বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে অফিসে যেতে।

কোভিড-১৯ বিস্তার রোধকল্পে সোমবার ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি শপিং মল, দোকান-পাট, হোটেল-রেস্তারাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ১১ দফা নিষেধাজ্ঞায় সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে একুশে বইমেলা এবং সিনেমা হলগুলো খোলা রাখা হয়েছে।

গত বছর মার্চ মাসে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার অফিস-আদালত সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিল।

রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগ, রায়ের বাজার, ওয়ারী এলাকায় সংক্রমণ বেড়ে গেলে ১৪ দিন লকডাউন দিয়ে সব কিছু বন্ধ এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছিল।

Share.

Leave A Reply