আগামী মাসেই তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসছে আফগানিস্তান

0

এফএনএস ডেস্ক: আগামী মাসেই তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার আফগান সরকারের একজন কর্মকর্তা এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামি দুই সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপের একটি দেশে তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসবে সরকার। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি। আফগানিস্তানের শান্তি আলোচনা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবদুল সালাম রাহিমি দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ ঘানি-র ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তালেবানের সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকারের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ দলে আলেম, নারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে সালাম আফগানিস্তান নামের একটি রেডিওতে এ শান্তি আলোচনার খবর দেওয়া হয়েছিল। এতে বলা হয়, জার্মানিতে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতোপূর্বে কাতারের সঙ্গে মিলে দোহায় একটি আন্তঃ আফগান সংলাপের আয়োজন করেছে জার্মানি। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, তালেবান ও আফগান কর্মকর্তারা এতে অংশ নিয়েছিলেন। এ মাসের গোড়ার দিকে দীর্ঘ ১৮ বছরের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে শান্তির রোডম্যাপে সম্মত হয় তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্র। কাতারে অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তান সরকারের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই সম্মতি আসে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক নয় এমন চুক্তিতে বেসামরিক হতাহত বন্ধ এবং ইসলামি কাঠামোর মধ্যে নারী অধিকার সুরক্ষায় সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা চূড়ান্ত করতে আরও আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। ২০০১ সালে মার্কিন আগ্রাসনে আফগানিস্তানে উৎখাত হয় তালেবান সরকার। তারপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। দীর্ঘ যুদ্ধ অবসানে গত বছরের জুনে কাতারে তালেবান বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা চূড়ান্ত হওয়ার আগে আফগান সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল তালেবান। কেননা, আফগান সরকারকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল মনে করে। তালেবানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনার বাইরে কিছুই বলতে পারে না আফগান সরকার। ফলে তাদের সঙ্গে আলোচনা অর্থহীন। তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দুনিয়ার অনুরোধে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় সম্মত হয়েছে। কাতারে আফগান কর্মকর্তাদের সঙ্গে তালেবানের সাম্প্রতিক বৈঠককে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান বিষয়ক দূত জালমাই খলিলজাদ। শান্তির রোডম্যাপের শর্তের মধ্যে রয়েছে বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুর্নবাসন এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কোনও প্রভাব না থাকা। ওই বৈঠক শেষে দুই পক্ষের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তান নিজ দেশের মধ্যে আর কোনও যুদ্ধ দেখতে চায় না। আর সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ চুক্তি অত্যাবশ্যক এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের হিসাবে, গত পাঁচ বছরে আফগানিস্তানের সংঘাতে নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৫ হাজার সদস্য নিহত হয়েছে। এই বছরের প্রথম তিন মাসে ৫৮১ জন বেসামরিক নিহত আর প্রায় ১২ হাজার আহত হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, বিবিসি।

Share.

Leave A Reply