আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ঈশ^রদীতে ১২ জন আহত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত

0

স্টাফ রিপোর্টার : পাবনা-৪ (ঈশ^রদী- আটঘরিয়া) আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষ্যে ঈশ^রদী উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক ইসাহক মালিথা গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বেলা পৌনে বারোটা থেকে কয়েক দফায় ঈশ^রদী উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাতে আহতরা হলেন ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা, মুলাডুলি ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কার মালিথা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কবির মালিথা, পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সজিব মালিথা, যুবলীগ কর্মী নাজিম উদ্দিন রনি, পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি সানোয়ার হোসেন লাবু, রিকশা চালক ওলিউর রহমান, ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আজিজ, ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম গোলবার হোসেন, যুবলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম, সেলিম রেজা ও আওয়ামী কর্মী আবু কালাম। এ সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, বিশিষ্ট শিল্পপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি, এ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপি, পাবনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, পাবনা পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু, ঈশ^রদী আটঘরিয়া আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ^াসসহ জেলা ও উপজেলার জেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যাযের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন। আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে ঘটনার সময় উপস্থিত নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সুত্রে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আসন্ন উপনির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেনসহ আগত অতিথিদের বরণ করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটনকে সঙ্গে নিয়ে পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহক আলী মালিথা দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই সময় পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু তাঁর সমর্থিত ২০-২৫জন যুবলীগ, ছাত্রলীগ সমর্থকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। মেয়র মিন্টু তাঁর লোকজন নিয়ে লিটনের সামনে এসে দাঁড়ান। এই সময় তাঁদের ধাক্কা ধাক্কি শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এই সময় মেয়র মিন্টুর পক্ষের লোকজন ইসাহক মালিথাসহ তাঁর পক্ষের লোকজনকে কিল, ঘুষি ও ইট পাটকেল দিয়ে আঘাত করে । এতে ইসাহক মালিথা, বক্কার মালিথা,কবির মালিথা রক্তাক্ত হন। অপর দিকে মেয়র মিন্টুর পক্ষের লাবু ও রনির পেটে এবং বুকে চাকুবিদ্ধ করে রক্তাক্ত করা হন। ঈশ^রদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুত্র মতে, এই ঘটনায় হাসপাতালে রক্তাক্ত অবস্থায় ইসাহক মালিথা, আবু বক্কার মালিথা, সানোয়ার হোসেন লাবু ও রনিসহ অন্তত ১২ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে লাবু ও রনি চাকুবিদ্ধ হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। উপস্থিত অতিথিদের হস্তক্ষেপে আহতদের উদ্ধার করে ঈশ^রদী উপজেলা কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঈশ^রদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবিরের নেতৃত্বে ঈশ^রদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন ও পরিবেশ শান্ত করেন। এই খবর চাউর হলে মহুর্তের মধ্যে ইসাহক মালিথা ও মেয়র মিন্টু গ্রুপের লোকজন ঘটনাস্থলে জমায়েত হয়। পক্ষে-বিপক্ষে নানা রকম শ্লোগান দিতে থাকে। এরপর আহত ইসাহক মালিথা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সভাস্থলে আসলে পূনরায় উত্তেজনা দেখা দেয়। তখন কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে ইসাহক মালিথা কার্যালয়ের ভিতরে সভাস্থলে যান। তখন অতিথিবৃন্দ মেয়র মিন্টু ও ইসাহক মালিথা মধ্যে মিল করিয়ে দেন। আর নিজের ভূলের জন্য মেয়র মিন্টু হাত জোড় করে সকলের নিকট ক্ষমা চান। এরপর অতিথিদের নির্দেশে কার্যালয়ের বাইরে থাকা উভয় গ্রুপের উত্তেজিত কর্মী সমর্থকদের শান্ত করতে মেয়র মিন্টু ও ইসাহক মালিথা বাইরে বের হন। তখন ইসাহক গ্রুপের লোকজন মেয়র মিন্টুর উপর হামলা করার চেষ্টা করেন। এই সময় পূনরায় উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। তখন পুলিশের কঠোর ভূমিকায় মেয়র মিন্টু ঘটনাস্থল থেকে চলে যান, অবস্থা আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পুরো শহরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তখন নৌকা প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ^াসকে পুলিশ পাহারায় দ্রুত আওয়ামীলীগ কার্যালয় থেকে নিজ বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এসব ঘটনাকে অত্যান্ত দূঃখজনক বলে মন্তব্য করে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ঈশ^রদী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক ইসাহক আলী মালিথায় মুল দায়ী। তবে উভয় পক্ষেই ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। তাই দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহনের পুর্বে তদন্তের জন্য ঈশ^রদী উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সকল কার্যক্রম স্থগিত করতে জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কোন সন্ত্রাসী ও অপরাধী আওয়ামীলীগে থাকতে পারবে না। নৌকা প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ^াস সাংবাদিকদের বলেন, নৌকার জনজোয়ার যদি পৌর আওয়ামীলীগের দুই নেতা কারণে নষ্ট হয়। তাহলে তাঁরা দায়ি থাকবেন। একই সঙ্গে মেয়র মিন্টু ও ইসাহক মালিথাকে পৌরসভার বাইরে নির্বাচনের মাঠে না যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। ঈশ^রদী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামীলীগের মধ্যে লুকিয়ে থেকে ষড়যন্ত্রকারীরা নৌকার তলা কাটছে। তাদের উদ্দেশ্যমুলক ষড়যন্ত্রের কারণেই আজকে আমার ও আমার কর্মীবাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে। পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহক আলী মালিথা সাংবাদিকদের বলেন, নৌকার জোয়ারকে নষ্ট করতে মেয়র মিন্টু তার বাহিনী নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে পরিকল্পনা করে আসছিল। আমরা তা সহ্য করে আসছি। বিগত পৌর নির্বাচনে আমি (ইসাহক মালিথা) প্রার্থী হতে চাওয়া থেকে মেয়র মিন্টু আমার সঙ্গে গ্রুপিং শুরু করেছে। আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট করেছে। আজকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নুরুজ্জামান বিশ^াসের বাড়িতেও মিন্টু তার লোকজন দিয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। ঘটনার সময় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিন্টু আমাকেসহ আমার লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। ইসাহক মালিথা আরও বলেন, মেয়র মিন্টু তার বাহিনী দিয়ে শহরে নানা রকম চাঁদাবাজী, দখলবাজীসহ নানা রকম অপরাধ মুলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন। ঈশ^রদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু বলেন, এটা একটা চরম দুঃখজনক ও অনাকাঙ্খিত এবং নিন্দনীয় ঘটনা। নির্বাচনের আগে এই ধরণের সংঘর্ষ একেবারেই কাম্য নয়। ঈশ^রদী থানা সুত্র মতে, বেশ কয়েকদিন পুর্বে থেকে মেয়র মিন্টু গ্রুপ ও ইসাহক আলী গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়। এই জন্য ঘটনার সময় প্রাণহানির মতো বড়ো কোন দূর্ঘটনা ঘটতে পারেনি। তবে মেয়র মিন্টু ও ইসাহক মালিথা গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ ঘটলেও পুলিশ তা কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই সময় প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ^াসকে পুলিশী নিরাপত্তায় একটি মাইক্রোযোগে নিজ বাসাতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঈশ^রদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির বলেন, আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সামনে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত পুলিশসহ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই বিষয়ে থানায় কোন পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়নি। কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি। শহরের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তারপরও শহরে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আর যেন কোনরুপ ঘটনা না ঘটে সেই জন্য সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে।ishwardi-alig two group clasin police action

Share.

Leave A Reply