অবসরে যাচ্ছেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর শফিকুল ইসলাম

0

স্টাফ রিপোর্টার : অবসরে যাচ্ছেন সরকারি মহিলা কলেজ পাবনার অধ্যক্ষ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর আলহাজ¦ শফিকুল ইসলাম।  আগামী ২৭ জানুয়ারি তার সরকারি চাকরিতে কর্মজীবনের শেষ দিন। শফিকুল ইসলাম সুজানগরের সাতবাড়িয়া স্কুল থেকে ১৯৭৬ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করে ভর্তি হন এডওয়ার্ড কলেজে।  ১৯৭৮ সালে এডওয়ার্ড কলেজ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। এরপরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় হতে দর্শন বিষয়ে অনার্স ও মাষ্টার্স পাশ করেন। এর আগে তিনি জনতা ব্যাংক ও টিএন্ডটিতে চাকরি করতেন। প্রফেসর শফিকুল ইসলাম অষ্টম বিসিএস পরীক্ষায় পাশ করে ১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বরে কক্সবাজার সরকারি কলেজে দর্শন বিভাগের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। কক্সবাজার থেকে বদলী হয়ে ১৯৯২ সালের ৬ জুন এডওয়ার্ড কলেজে যোগদান করেন প্রভাষক পদে। এরপরে ২০০১ সালের ৫ জুলাই সহকারী অধ্যাপক হিসেবে বগুড়া আজিজুল হক সরকারি কলেজে বদলী হয়ে যোগ দেন। একই বছরের ২৯ ডিসেম্বরে এডওয়ার্ড কলেজে বদলী হয়ে আসেন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে ব্রাক্ষèনবাড়িয়া নবীনগর সরকারি কলেজে যোগ দেন। ২০০৫ সালের ৫ মে তিনি পাবনা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন।  ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বরে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি হয়ে নীলফামারির চিলাহাটি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। ২০১৭ সালের ১৮ মার্চ অধ্যাপক পদে পদোন্নতি হয়ে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে দর্শন বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন। এবছরেরই ২৫ নভেম্বর তিনি পাবনা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগদান করে কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এবছর ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারিতে চাকরি জীবনের অবসরে যাবেন তিনি। ব্যাক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সদালাপী প্রফেসর শফিকুল ইসলাম জেলার সুজানগর থানার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের তারাবাড়িয়া গ্রামের মরহুম ফয়েজ উদ্দিন শেখ ও মরহুমা কুলছুম নেছার ছেলে। ১৯৬২ সালের ২৮ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহন করেন। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী এই শিক্ষাবিদ নিজের এলাকার জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। এলাকার ছেলে মেয়ের পড়ালেখাসহ নানা বিষয়ে তার সহযোগিতার ধারা উল্লেখ করবার মতো। সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া শফিকুল ইসলাম অন্যের অসুবিধাকে নিজের অসুবিধা মনে করে পাশে দাড়িয়েছেন শুভানুধ্যায়ীদের। ২০১১ সালে তিনি পবিত্র হজ¦ব্রত পালন করেন। শহরের রাধানগরের নারায়নপুরে বাড়ি করে সেখানে স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা কনা এবং ছেলে স্বরুপ মো.ফয়েজ ও মেয়ে রাফিকা বিনতে শফিক শ্রেষ্ঠাকে নিয়ে বসবাস করেন তিনি। তিনি রোটারী ক্লাব অব নিউসিটির একজন অন্যতম সদস্য। তার চাকরি জীবন থেকে অবসরের কথা জেনে সহকর্মী শিক্ষকমন্ডলীর মাঝে একটা মন খারাপের আবহ লক্ষ্য করা গেছে।  পাবনা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক কর্মচারীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আপনজন। ব্যবহার, দায়িত্ববোধ ও দায়বদ্ধতার কারনে নিজেকে তিনি সকলের কাছে একজন আপন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সামর্থ্য হয়েছিলেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর শফিকুল ইসলাম তার আগামী দিনের জন্য সকল শুভানুধ্যায়ী ও পরিচিতজনদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

Share.

Leave A Reply