অধিদপ্তরের কথা ঠিক হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত: ফখরুল

0

এনএনবি : রিজেন্ট হাসপাতালের অনুমোদনের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের পদত্যাগ চেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বক্তব্য আসার পরদিন গতকাল রোববার নিজের বাসা থেকে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

বিতর্কিত মোহাম্মদ সাহেদ মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের’ নির্দেশে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দিতে লাইসেন্সহীন ওই হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল।

ফখরুল বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে এখন যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

“স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে যে, আমি তো রিজেন্ট হসপিটালকে অনুমোদন দিতাম না আমাকে যদি মন্ত্রণালয় থেকে না বলা হত। অর্থাৎ মিনিস্ট্রি থেকে বলা হয়েছে যে, রিজেন্ট হসপিটালকে অনুমতি দাও।

“তাহলে কে রেসপনসেবল? দি হেলথ মিনিস্টার হিমসেলফ শুড রিজাইন ইমিডিয়েটলি এন্ড হি শুড বি ব্রট ইন দি ট্রায়াল হোয়াই টু হি গিভ ইট।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “প্রচ- দুঃসময়ের মধ্যে করোনা টেস্ট করতে গিয়ে দুর্নীতি এবং তার সঙ্গে জড়িত কে? আওয়ামী লীগের সদস্য।

“আজকে গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলেছে, ভঙ্গুর হয়ে গেছে। যে হারে লুটপাট করেছে, আপনারা সবাই দেখেছেন।”

দুর্নীতির এই চিত্র প্রকাশ্যে আনার জন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

করোনাভাইরাস সঙ্কট মোকাবেলায় বিএনপির দেওয়া দীর্ঘ-মধ্য-স্বল্প মেয়াদী সুপারিশ গ্রহণ না করায় সরকারের সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব।

“ফলে আমরা কী দেখেছি? আমরা দেখেছি যে, প্রথম দিকে মানুষ এমনভাবে যারা দিন আনে দিন খায় তারা কষ্ট করছে, এখন তো কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। একদিকে সব খুলে দেওয়ার পরে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়েছে, মানুষের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।”

ফখরুল বলেন, “একটা কথা বলে রাখতে চাই, গোটা পৃথিবীর সভ্যতা আগের অবস্থায় আর থাকবে না, পরিবর্তন হবে, হচ্ছে।

“আজকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরা, অর্থনীতিবিদরা সবাই বলছেন যে, এই করোনাভাইরাসের ফলে এটা বদলাবে। কীভাবে বদলাবে, সেটা আমরা সবাই জানি না। তবে পরিবর্তনগুলো হচ্ছে।”

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবার হটলাইন (০৯৬৭৮১০২১০২) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কথা বলেন ফখরুল। এই সঙ্কটকালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নেওয়া কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই সময়েও সরকারের দমন নীতির সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “আজকে যারা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে চান, তারা শিকার হচ্ছেন গুমের, তারা শিকার হচ্ছেন মিথ্যা মামলার, তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

“পলি নামে একজন কিশোরী মেয়ে তার ফেইসবুকে স্বাধীন মত প্রকাশ করার কারণে রাতের বেলা তাকে গ্রেপ্তার করে এখনও আটকে রেখেছে। ছাত্রদলের সাবেক নেতা টিটো হায়দার ৪/৫দিন হল গায়েব। নোয়াখালীর নেতৃবৃন্দ বার বার বলছেন, সেখানে র‌্যাব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করছেন। কখনও তারা আকার ইঙ্গিতে বলে আছে, আবার কখনও বলে আমরা কিছুই জানি না।

“কিন্তু সুস্পষ্টভাবে সবাই দেখছে যে, টিটো বেগমগঞ্জ থানায়ই আছে। অনেকই দেখেছেন। কিন্তু পুলিশ বলছে যে, সে তাদের কাছে নেই।”

“এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে ভয় পাইয়ে দেওয়া যে, আর কেউ করোনা নিয়ে কথা বলো না, কী হচ্ছে না হচ্ছে, কত জিকেজি, রিজেন্টের ঘটনা হবে-খবরদার এসব নিয়ে কথা বলতে পারবে না, সরকারের কোনো অনাচার নিয়ে কথা বলতে পারবে না,” বলেন রিজভী।

ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাব সভাপতি ডা. হারুন অর রশিদও এতে বক্তব্য রাখেন।

Share.

Leave A Reply